মার্কেটওয়াচ

সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানাতে হবে

বাজার ভালো করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এটা সবাই চায়। কিন্তু এখন বাজারের যে দুরবস্থা তাতে বাজারকে স্থিতিশীল অবস্থানে নেওয়ার মতো সক্ষমতা না আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, না আছে বিএসইসির। বাজারে বিরাজমান সমস্যাগুলোর বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে এবং বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি যেতে হবে। এছাড়া বাজার স্থিতিশীল অবস্থানে যাবে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলী খান এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহসানুল আলম পারভেজ।
মুরশিদ কুলী খান বলেন, সঞ্চয়পত্রে আগে অনেকেই বিনিয়োগ করত, টিআইএন নম্বর ছিল না এবং তখন কোনো হিসাব রাখা হতো না কারা এখানে বিনিয়োগ করছে। এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এবারের বাজেটে অনেক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এখানে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বিনিয়োগ করতে পারবে, বিনিয়োগের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। টিআইএন নম্বর থাকবে। তবে হ্যাঁ, সঞ্চয়পত্রে এখনও সুদের হার ব্যাংকের তুলনায় একটু বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে আইপিওর মাধ্যমে যে কোম্পানিগুলো বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এমন অনেক কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ফেসভ্যালুর অনেক নিচে রয়েছে। এ অবস্থা কেন সৃষ্টি হচ্ছে?
আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, চলতি ২০১৯-২০ অর্ধবছরের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে এবং তেমন গুরুত্ব দেয়নি। একটি দেশের অর্থনীতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অনেক ভূমিকা রয়েছে। বেসরকারি খাতের জন্যই অর্থনীতির উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে। যদি বেসরকারি খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় ও বিনিয়োগ আটকে যায় তাহলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পুঁজিবাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী জানে না কীভাবে কারসাজি হচ্ছে। কারণ তারা অতি সহজ-সরল বিনিয়োগকারী। তারা মনে করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করলে বাজার ভালো হয়ে যাবে। আসলে বিষয়টি তা নয়। বাজার ভালো করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এটাই সবাই চায়। কিন্তু এখন বাজারের যে দুরবস্থা তাতে বাজারকে স্থিতিশীল অবস্থানে নেওয়ার মতো সক্ষমতা না আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, না আছে বিএসইসির। বাজারে বিরাজমান সমস্যাগুলোর বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে এবং বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি যেতে হবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..



/* ]]> */