সম্পাদকীয়

সমাজের উন্নতি চাইলে গবেষণায় গুরুত্ব দিন

দেশের শিক্ষা বিস্তার, আর্থসামাজিক উন্নতিসহ নানা উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এরপর একে একে ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ও শতাধিক। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণাকর্ম আসবে, প্রত্যাশা সেটাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দু’একটি বাদে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এতে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতেও ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোগ সন্তোষজনক নয়। ফলে শিক্ষকরা সান্ধ্য কোর্স কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার মতো বিকল্প পথে ঝুঁকছে। ভবিষ্যতের জন্য এটা মোটেও ভালো খবর নয় বলে আমরা মনে করি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘গবেষণায় নামমাত্র বরাদ্দ: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান সৃষ্টির পথ রুদ্ধ’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা ও গবেষণা’ এই মানদণ্ডে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গড়ে উঠলেও গবেষণায় নামমাত্র বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এবারও বাজেটের এক শতাংশের কম থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দুই শতাংশের কিছু বেশি বরাদ্দ রয়েছে। বেতন-ভাতা-পেনশন ও অনুন্নয়ন খাতে বাজেটের সিংহভাগ অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অথচ আবাসন সংকট নিরসন, ক্লাস রুম, লাইব্রেরি, ক্যান্টিন, চিকিৎসাসেবাসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এ বিষয়গুলো বরাবরই অবহেলার চোখে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যা হতাশাজনক।
খবরেই বলা হয়েছে, এবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুপাতিক হারে গবেষণা কমেছে। তবে এটাও ঠিক, গবেষণার চেয়ে শিক্ষকদের একটি অংশ রাজনীতি, দলীয় পদ-পদবির পেছনে ছোটা ও সান্ধ্য কোর্স কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আর্থিক ব্যাপারও এক্ষেত্রে জড়িত। বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে বেতন-ভাতা, উন্নয়ন-অনুন্নয়ন খাতে সিংহভাগ বরাদ্দ রাখছে। এটি নিয়েও আপত্তি রয়েছে শিক্ষার্থীদের। কারণ সিংহভাগ খরচ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হলেও কাক্সিক্ষত সেবা তারা পাচ্ছেন না।
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে শিক্ষাবিদদের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। শিক্ষকতার মান কমার কথাও বলছেন তারা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আগে শিক্ষকদের সদিচ্ছা দেখাতে হবে। ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারকেও এ নিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব, শিক্ষক নিয়োগে মেধা বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনার সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি যতটুকু গবেষণা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন অনেক। বিশেষত এগুলোর কোনো কার্যকারিতা নেই বলেই অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অবহেলিত ও বঞ্চিত রেখে শিক্ষাব্যবস্থা এগোবে না। এজন্য তাদের ন্যায্য চাহিদা ও দাবিগুলো পূরণের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে হবে। এছাড়া গবেষণার জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা এটিও গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখা প্রয়োজন।

সর্বশেষ..