বাণিজ্য সংবাদ

সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় কমবে বাণিজ্য ঘাটতি

চিটাগং চেম্বারে ভারতীয় হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই নিকটতম প্রতিবেশী দেশ। উভয় দেশের মধ্যে আছে বাণিজ্য সম্পর্ক। তবে বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপক। এ ঘাটতি কমাতে নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার, ট্রানজিটের আওতায় কার্গো মুভমেন্ট, কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানো, মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগসহ এগিয়ে আসতে ভারত সরকারকে। আর বিদ্যামান অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। এতে উপকৃত হবে উভয় দেশের ১৫০ কোটি মানুষ। এতে সূচিত হতে পারে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত। গতকাল চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।
সভায় ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর সৌহার্দ্যরে ভিত্তিতে ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় অতিবাহিত করছে। পারস্পরিক সম্পর্ক এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করছে। ২০১৮-১৯ সালে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি এক দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তৈরি পোশাক রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের অনেক বিখ্যাত কোম্পানি যেমন- হিরো, টাটা ইত্যাদি ৫৭০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি বিনিয়োগ করেছে। উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের এলডিসি স্ট্যাটাস পরিবর্তিত হলেও অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে। হাইকমিশনার বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধাসমূহ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, অর্থনৈতিক চরিত্র বিচারে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারত এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের সমাহার কম হলেও ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি ভারত হতে আমদানির বিপরীতে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার লক্ষ্যে রফতানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এক্ষেত্রে বিদ্যমান অশুল্ক বাধাসমূহ দূর করার ক্ষেত্রে হাইকমিশনারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত কর অবকাশসহ বিভিন্ন প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণ করে মীরসরাই ইকোনমিক জোনে যৌথ বা এককভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারত ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানি করে উভয়পক্ষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।
বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী বলেন, ট্রানজিট জটিলতায় কারণে ভারতে রফতানিতে বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। একটি ট্রাককে বেনাপোলে তিন দিন অপেক্ষা করতে হয় পণ্যবোঝাই নিয়ে। এতে আমাদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে উভয় দেশ আন্তরিকতার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পারে।
অন্যান্য বক্তারা মীরসরাই ইকনোমিক জোনে জেটি নির্মাণ, আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে উভয় দেশে পরস্পরের ট্রাক চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় রাজ্যসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, ভারতগামী বাংলাদেশি চিকিৎসা প্রার্থীদের জন্য সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন, তৈরি পোশাক রফতানিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, শুল্কায়নসহ বাণিজ্য সহজীকরণ, সম্ভাবনাময় খাতসমূহে মূল্য সংযোজন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ট্রানজিট বন্দর হিসেবে ব্যবহার করা এবং যৌক্তিক পর্যায়ে মাশুল নির্ধারণ, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশসমূহের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলা, উভয় দেশের ব্যাংকিং চ্যানেল উন্নয়ন, ধর্মীয় পর্যটন উৎসাহিতকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে ভারতীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, এসএম আবু তৈয়ব, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, জাপানের অনারারী কনসাল নুরুল ইসলাম, কাস্টমস কমিশনার এম ফখরুল আলম, দৈনিক পূর্বকোণের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ, বাফার সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ও উইমেন চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মুনাল মাহবুব।

সর্বশেষ..