সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার চায় বেভারেজ কোম্পানিগুলো

কোমল পানীয় উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেভারেজ একটি বিকাশমান খাত। এ খাতে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ছে। কিন্তু এ খাতে স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক ও অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ প্রায় ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়। সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিবিএমএ)। একই সঙ্গে সিরামিক শিল্প সুরক্ষা ও রফতানি বৃদ্ধির জন্য কাঁচামালে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)।

গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় পৃথকভাবে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

প্রস্তাবনা তুলে ধরে কোকাকোলা বাংলাদেশের পরিচালক ও বিবিএমএ-এর সচিব শামীমা আক্তার বলেন, বিবিএমএ জানিয়েছে, বেভারেজ খাতে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ বেড়েছে। গত সাত বছরে ৯টি কোম্পানি প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু এ খাতে স্থানীয় পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কর রয়েছে। বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় এ করহার। অথচ পানীয় ব্যবহার অত্যন্ত কম। গত বছর আমরা প্রায় ৮০০ কোটি টাকার দিয়েছি। সম্পূরক শুল্ক অত্যন্ত বেশি হওয়ায় আমাদের বিনিয়োগ বাড়ছে না। এ শুল্ক কমানো গেলে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

তিনি বলেন, আইসক্রিম, কেক, চকোলেট, লজেন্স, বিস্কুট, মিষ্টি, দই ইত্যাদির ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সম্পূরক শুল্কারোপ নেই। এটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। ফলে একই ধরনের খাদ্যদ্রব্য হওয়ায় কোমল পানীয়র ওপর সম্পূরক শুল্কারোপ করা, অন্তত বেশি হারে আরোপ করা কোনোমতেই যুক্তিসঙ্গত নয়। ভ্যাট আইনের সাত নম্বর ধারায় উল্লিখিত নীতিমালার আলোকে কোমল পানীয় কোনো বিলাসপণ্য বা সামাজিকভাবে অনভিপ্রেতকর নয়। এর ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক বাতিল করা বা কমানোর সুপারিশ করেন তিনি। একই সঙ্গে এ খাতে স্থায়ীভাবে শিল্পের বিকাশ ঘটবে, শিল্পের ভিত মজবুত হবে, আমদানি-নির্ভরতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে ও সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, এনার্জি ড্রিংকের কোনো বিএসটিআই স্বীকৃত মান নেই। এ মান করে দিলে বেভারেজ ও এনার্জি ড্রিংক বিষয়ে এনবিআর পরিষ্কার ধারণা পাবে, কর বাড়বে।

আকিজ বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন বলেন, আমাদের স্থানীয় উৎপাদনে খরচ বেশি বলে ইন্ডাস্ট্রিজ বাড়ছে না। আমাদের পানীয় ব্যবহার বাড়াতে হলে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে বিনিয়োগ বাড়বে। ২০১৪ সালে সম্পূরক শুল্কারোপের ফলে গত কয়েক বছরে বিনিয়োগ বাড়েনি। এনার্জি ড্রিংক ও বেভারেজকে আলাদা করে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মো. খায়রুল আনাম বলেন, গত বছর প্রায় ১০০ মিলিয়ন পানীয় রফতানি হয়েছে। মধ্যপাচ্যে প্রচুর পরিমাণে আমরা পানীয় রফতানি করছি। প্রণোদনা দেওয়া গেলে রফতানি বাড়বে।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি ও চায়না বাংলা সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম মোল্লা সিরামিক আমদানিতে কম মূল্য দেখানোর অভিযোগ করেন। তিনি স্থানীয় সিরামিক শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অংশ হিসেবে আমদানিকৃত সিরামিকে শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত সিরামিকের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, সিরামিক পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণায় কম মূল্য দেখানো হয়। টাইল্স, টেবিলওয়্যারসহ অন্যান্য সিরামিক পণ্য আমদানিতে ভয়াবহ রকমের কম মূল্য দেখানো হচ্ছে। এর ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছে।

চেয়ারম্যান বলেন, এবার বাজেট গতানুগতিক নয় একটু ভিন্ন এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব হবে। আগামী বাজেটে এবারের বাজেটের চেয়ে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা বাড়বে। সে অনুযায়ী রাজস্ব বাজেটও বাড়বে। আমরা করজাল বাড়িয়ে সে রাজস্ব আহরণ করবো। পানীয় এর রফতানি বাড়লে সুবিধা দেওয়া হবে। রফতানির ক্ষেত্রে কিছু রেয়াত দেওয়া যেতে পারে।