সম্পাদকীয়

সরকারি প্রকল্প অভিজ্ঞদের দিয়ে বাস্তবায়ন করুন

দেশের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ বিস্তর। ফলে মানহীন সরকারি অবকাঠামোর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অথচ যে কোনো ধরনের প্রকল্প ব্যয় বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি। কিন্তু কাজ হচ্ছে মানহীন। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি হলেও তা দীর্ঘ সময় কাজে আসছে না মানুষের। এমনকি কিছু প্রকল্প নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। সর্বশেষ ঝিনাইদহে নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার ধসে পড়েছে, যদিও এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মানুষের কল্যাণার্থে এবং দীর্ঘ স্থায়ীত্বের জন্য এ ধরনের প্রকল্প অভিজ্ঞ ও দক্ষদের দিয়ে বাস্তবায়ন জরুরি, বন্ধ করতে হবে অনিয়ম-দুর্নীতিও।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ঝিনাইদহে ভেঙে পড়ল নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঝিনাইদহ শহরের ধোপাঘাটা এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের অধীন ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর দুটি বৃহৎ আকারের গার্ডার (বেস্টক) ভেঙে পড়েছে। সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়ার সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। খবরটি উদ্বেগজনক। এখানে কাজে অবহেলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়। নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্বব্যাংকসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে সড়ক নির্মাণের ব্যয়ের দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশ। এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পেও বাড়তি ব্যয়ের নজির রয়েছে। কিন্তু মানের দিক থেকে তাদের ধারেকাছেও থাকে না দেশের প্রকল্পগুলো। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তার কাক্সিক্ষত সুফল কিন্তু মানুষ পাচ্ছে না। এ অর্থের বড় অংশই অপচয় হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এ অবস্থার অবসান হওয়ার জরুরি। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, জাইকার অর্থায়নে মনিকা লিমিটেড পিডব্লিউ-০৩ প্যাকেজের আওতায় ব্রিজটি নির্মাণ করছে। কাজে ত্রুটি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্মাণসংশ্লিষ্টদের কোনো অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো অবহেলা পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দেখা যায়, দেশের সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতা থাকে। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও বেশি ওঠে। এ ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। সব ধরনের প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদারকি এবং পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও দক্ষদের দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। জনগণের অর্থ নয়ছয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সর্বশেষ..



/* ]]> */