আজকের পত্রিকা

সরবরাহ স্তরে নজরদারি করে সহনীয় রাখুন নিত্যপণ্যের দাম

বাজেট আমাদের সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা বাজেট ঘোষণার আগেই দাম বাড়িয়ে দেয়। আবার বাজেটে বাড়ানো না হলেও কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় তারা। এবার আরও সুযোগ পেয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। মূসক, কর আর আমদানিতে অগ্রিম কর আরোপের কথা বলে পণ্যের দাম যথেচ্ছ বাড়ানোর অজুহাত পেয়েছে তারা। নিয়মিত বাজার তদারকি করা গেলে এ প্রবণতা কিছুটা হলেও কমত।
গতকাল শেয়ার বিজের ‘টমেটো গাজর শসার দামে সেঞ্চুরি: বাজেটের চাপ অন্যান্য ভোগ্যপণ্য’ শীর্ষক প্রতিবেদন দেশের বাজারব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোয় টমেটো, গাজর ও শসার কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। এই তিন সবজির মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। বেড়েছে ডিম, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম। বাজেটের পর থেকে ভোগ্যপণ্যের বাজারে বেশ প্রভাব পড়েছে।
মৌসুম না হওয়ায় টমেটো ও গাজরের দাম বেশি থাকতেই পারে। বাজারে এখন যে টমেটো ও গাজর পাওয়া যাচ্ছে, তা আমদানি করা। বাজারে নতুন টমেটো, গাজর ও শসা না আসা পর্যন্ত এগুলোর দাম কমার সম্ভাবনা কম। এটি ক্রেতাসাধারণের নাগালে রাখতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমরা জানি, খুব কম দামেই পণ্য বিক্রি করেন সবজিচাষিরা। বগুড়ায় যে লাউয়ের দাম ১০ টাকা, সেটি রাজধানীতে বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। সরবরাহকারী ও পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, পণ্য আনার পথে চাঁদাবাজি হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হয় তাদের। না হলে অর্ধেক দামে বিক্রি করা যেত। রাজনৈতিক সংগঠন তো বটেই, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিরুদ্ধেও রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও তা উঠে এসেছে। রাজনৈতিক দলের নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণপূর্বক ব্যবস্থা নিতে পারেন। রমজানের আগে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, একটি সার্বক্ষণিক কল সেন্টার করে দেবেন। তাতে চাঁদাবাজির তথ্য জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সেটি চালু করলে সুফল মিলতে পারে।
সরবরাহের প্রতিটি স্তরেও নজরদারি করা যেতে পারে। উৎপাদক, সরবরাহকারী, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার যেন বাইরে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী না থাকে। স্তরসংখ্যা বাড়লে পণ্যের দামও বাড়বে। প্রতিটি স্তরেই চাঁদাবাজি হয়। এটি বন্ধ করা গেলে বেশি টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে হবে না।
সবজিপণ্যের রুটগুলোয় চাঁদাবাজি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনগুলো ব্যবস্থা নিতে পারে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরও বিভিন্ন স্থানে পণ্যের দাম যাচাইয়ে তদারকি অভিযান পরিচালনা করলে নিত্য পণ্যের দাম কমবে বলেই ধারণা।

 

সর্বশেষ..