সম্পাদকীয়

সহজ শর্তের ঋণ অনুসন্ধান করুন

সৈয়দপুরের ১৫০ মেগাওয়াট ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল আসবে ভারত থেকে; ঠিকাদার ও ঋণ আসবে চীন থেকে। প্রায় এক হাজার এক কোটি টাকার ঋণে চীন যে শর্ত দিয়েছে, তা বেশ
ভারযুক্ত। সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি অপচয় বেশি। উপরন্তু ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এসব ধকল কাটিয়ে উঠতে নিশ্চয় পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। সেক্ষেত্রে ঋণের শর্ত সহজীকরণের বিকল্প থাকে না।
মনে রাখা উচিত, চীনারা বিশ্বব্যাপী ঋণ ছড়িয়ে আনাচে-কানাচে তাদের ব্যবসায় কর্মকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আফ্রিকার অনেকগুলো দেশ সেসব ঋণশর্তের পরিণতি বইয়ে বেড়াচ্ছে। বিপরীতে চীনা ঋণের ব্যাপারে একটি অচ্ছুত মনোভাব তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাপী। এ ব্যাপারে চীনের সঙ্গে বহু চুক্তিতে আবদ্ধ খোদ মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট চীন সফরের যাত্রাপথে সাংবাদিকদের কাছে চীনা ঋণের ভয়াবহতা সম্পর্কে তার গৃহীত সতর্কতা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গতকালের শেয়ার বিজে ‘চীন থেকে কঠিন শর্তে ঋণ নিচ্ছে পিডিবি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঋণটির কাঠিন্য তুলে ধরা হয়েছে। যদিও এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকার ও পিডিবি সিংহভাগ অর্থ জোগান দেবে। তবুও চীনের ৪৮৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে দুই ধরনের সুদের হারে ডলারে দেওয়া ঋণের ছয় মাস মেয়াদি লাইবর হারের সঙ্গে ৮০ শতাংশ অতিরিক্ত এবং ইউরোতে দেওয়া ঋণে ছয় মাস মেয়াদি ইউরিবর হারের সঙ্গে বার্ষিক দুই শতাংশ অতিরিক্ত ঋণে যথাক্রমে তিন দশমিক ৬১১ শতাংশ ও এক দশমিক ৬৩৩ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। তবে সুদের হারের মধ্যেই আর্থিক শর্ত শেষ নয়। সঙ্গে থাকছে এক শতাংশ ম্যানেজমেন্ট ফি ও দশমিক ৮০ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি। অধিকন্তু মূল ঋণ ও সম্ভাব্য সুদের পাঁচ দশমিক ৫৬ শতাংশে প্রিমিয়াম বিমা দিতে হবে। সব মিলে এই ঋণ পরিশোধে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ৬৪ পয়সা গুনতে হবে। এই বিপুল ঋণের বোঝা গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের ওপর একটি অনাকাক্সিক্ষত চাপ সৃষ্টি করবে। এটা দেশের বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও তার চাপ সহনে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে।
২০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা ও ব্যবস্থাপনা সহজ করবে। তবুও তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে ১২ বছরের মধ্যেই সর্বসাকল্যে পরিশোধ সম্পন্ন করার এই কঠিন ঋণশর্ত দেশের আর্থসামাজিক কাঠামো বিবেচনায় ঋণ প্রস্তাবটি সরকারের অনমনীয় ঋণবিষয়ক স্থায়ী কমিটি সহজীকরণের উদ্যোগ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */