সাইবার নিরাপত্তায় ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা মজবুত করা দরকার, এমন সতর্কতা বহুদিন ধরেই উচ্চারিত হয়ে আসছিল। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা ছিল ব্যাংকিং খাত ঘিরে। মাঝে একবার শীর্ষস্থানীয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সজাগ হন অনেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও দেওয়া হয় নানা দিকনির্দেশনা। তার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্যবস্থাও গৃহীত হয়। তবে অনেকের মতে, ওইসব পদক্ষেপ যথেষ্ট ছিল না; উচিত ছিল সাইবার নিরাপত্তায় আরও জোরালো অবস্থান নেওয়া। অবশ্য তারা যেমন পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকিং ঠেকানো যেত কি না সংশয় রয়েছে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরির ঘটনাটি ছিল অভূতপূর্ব। সাধারণ ব্যাংকিং নিরাপত্তায় ব্যবহৃত ও পরামর্শকৃত সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো দিয়ে তা প্রতিহত করা যেত না বলেই বিশ্বাস। প্রকৃতপক্ষে ওই ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজন কমপক্ষে একাধিক টিম; যারা সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করবে গোটা নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বিপত্তি হলো ওই ধরনের টিম গঠনের জন্য যে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিতে হয়, তা এ মুহূর্তে ঠিক দেখা যাচ্ছে না। এদিক থেকে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘তরুণদের সাইবার নিরাপত্তায় ক্যারিয়ার গড়ার আহ্বান’ শীর্ষক খবরটি তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে বিশেষজ্ঞরা যে বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও তরুণদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিগোচর হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও সামাজিক কাজে নেতৃত্ব’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেছেন, বিশ্বে ১৮ লাখ সাইবার নিরাপত্তা প্রকৌশলীর প্রয়োজন হবে ২০২০ সাল নাগাদ। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশি তরুণদের এখনই সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। নতুন করে বলার দরকার নেই, কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ সাইবার নিরাপত্তা। জনবহুল ও ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ সুবিধায় থাকা এ দেশের জন্য তা এক বড় সুযোগ বটে। ফলে সাইবার নিরাপত্তায় ক্যারিয়ার গঠনে তরুণদের আগ্রহ শুধু নয়, এ খাতে মনোযোগ না দিলে বরং ক্ষতি অর্থনীতির। কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, এর বৈশ্বিক চাহিদাও বাড়ছে ক্রমান্বয়ে। এ অবস্থায় সাইবার নিরাপত্তায় ক্যারিয়ার গঠনে আগ্রহ বাড়াতে উদ্যোগ যে নেওয়া দরকার, তা বিতর্কের ঊর্ধ্বে। সমস্যা হলো, এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আমাদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। অস্বীকার করা যাবে না, ফ্রিল্যান্সাররা আউটসোর্সিং থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। দুর্ভাগ্য হলো, এর বিপরীতেই বিনষ্ট হয়েছে আউটসোর্সিং থেকে প্রাপ্ত বর্তমান আয়কে কয়েকগুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা। অপরিণামদর্শী হস্তক্ষেপ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাব প্রভৃতি কারণে সেই সম্ভাবনার অনেকটাই খুইয়েছি আমরা; যেজন্য উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা ও সঠিক নির্দেশনার ঘাটতিই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে প্রতীয়মান। সচেতন পাঠকদের ভুলে যাওয়ার কথা নয় এক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘পেপ্যাল’ নিয়ে কী কাণ্ড ঘটল দেশে! এসব প্রতিবন্ধকতা বিরাজ করতে থাকলে তরুণদের পক্ষে আগ্রহী হওয়া সহজ হবে না সাইবার নিরাপত্তায় ক্যারিয়ার গঠনে।