সাতগম্বুজ মসজিদে কিছু সময়

সারার স্কুল বন্ধ মানে তাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া। এই যেমন সেদিন সে জানাল, আগামীকাল আমার স্কুল বন্ধ। এর মানে কাল আমাদের ভ্রমণ দিবস। সিদ্ধান্ত নিই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাতগম্বুজ মসজিদ দেখতে যাব। সাতটি গম্বুজ থাকায় এ মসজিদের নামকরণ ‘সাতগম্বুজ’ হলেও স্থানীয় লোকে চেনে ‘সাতমসজিদ’ নামে।
চলতি পথে যথারীতি সারার প্রশ্ন, আম্মি, আগে সব মসজিদের নাম কি গম্বুজের সংখ্যা দিয়ে হতো? যেমন ষাটগম্বুজ মসজিদ। খুবই সরল প্রশ্ন!
উত্তরে বললামÑনা, ঠিক তেমনটি নয়। অনেক নির্মাতার নামেও মসজিদ আছে।
সে আবার প্রশ্ন করল, এ মসজিদের স্থপতি কে?
বলছি শোন। মূল ইতিহাস জানা যায়নি। তবে লালবাগ দুর্গ ও খাজা আম্বর মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মোগল সুবেদার শায়েস্তা খাঁর ছেলে উমিদ খাঁ এ মসজিদ নির্মাণ করেন। পূব পাশে আছে নকশাখচিত তিন খিলানবিশিষ্ট দেয়াল এবং এই খিলানপথ বরাবর পশ্চিমের দেয়ালে
অর্ধ-অষ্টাভুজাকৃতির তিনটি মেহরাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় মেহরাবে আছে তিন সিঁড়িবিশিষ্ট মেহরাব। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ১৭.৬৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ০৮.২৩ মিটার প্রস্থের মসজিদটির চার কোণে চারটি ও মাঝে তিনটি গম্বুজ দিয়ে ১৬৮০ সালে নির্মাণ করা হয়। মসজিদের পশ্চিম পাশে ঘাট ছিল, যেখানে বড় পালতোলা নৌকা ভিড়ত। ১৮১৪ সালে স্যার চার্লস ডি ওয়াইলির আঁকা ছবিতে নদীর অবস্থান পাওয়া যায়। তবে এখন নদী নেই, এমনকি খালও নেই। এ মসজিদের চারপাশে বিস্তীর্ণ খোলা জায়গা ছিল। পূর্বে একটি সমাধি আছে। কথিত আছে, এটা শায়েস্তা খাঁ’র মেয়ের কবরÑএটা ‘বিবির কবর’ নামে পরিচিত। এ সমাধিঘরটি বাইরে থেকে দেখতে চতুষ্কোণাকৃতির হলেও ভেতর থেকে অষ্টকোণাকৃতির। অনিন্দ্যসুন্দর মসজিদটির সামনে ফুলের বাগান আছে।
মসজিদের পূর্ব পাশে তাঁবু টানানো দেখে সারা জিজ্ঞাসা করল, এখানে তাঁবু টানানো কেন? প্রথমে আমার মনেও এ প্রশ্ন জেগেছিল। দেখলাম, মসজিদের ভেতরে তিন কাতারে ৯০ থেকে ১০০ লোক নামাজ পড়তে পারে। তাই বাইরে তাঁবু টানিয়ে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আমাদের দেখা শেষ। এবার ফেরার বেলা। সারার দাবি, আরও কিছুক্ষণ সে থাকবে। কিন্তু সন্ধ্যায় রাজধানীর চিরচেনা জ্যাম মোহাম্মদপুরে হাজির হয়। সুতরাং এ এলাকায় সন্ধ্যায় থাকতে চাই না।

যেভাবে যেতে হবে
রাজধানীর যে কোনো স্থান থেকে প্রথমে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে আসতে হবে। এখান থেকে হেঁটে যেতে পারবেন বাঁশখালী এলাকায়। এখানে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর পুরোনো ‘সাতগম্বুজ মসজিদ’। ব্যক্তিগত গাড়ি না আনাই ভালো। কারণ গাড়ি রাখার খুব ভালো ব্যবস্থা নেই। পথে কিছু খেতে চাইলে বাসা থেকে তৈরি করে আনাই ভালো। কিছু রেস্টুরেন্ট আছে, চাইলে সেখানেও খেতে পারবেন। অল্প সময় হাতে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে। দেখতে পাবেন অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপনা। জানতে পারবেন অতীত, যা আপনার সামনে চলার পথ আরও সুন্দর করবে।

উম্মে আরীশা গাজী