সাপ্তাহিক দর বাড়ার শীর্ষে বিডি অটোকারস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিডি অটোকারস লিমিটেড গত সপ্তাহে দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে এক কোটি চার লাখ ৯০ হাজার ২৫০ টাকা। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ চার কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

সর্বশেষ কার্যদিবসে শেয়ারদর সাত দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ বা আট টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১২৩ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১২২ টাকা। দিনজুড়ে দুই লাখ ২৭ হাজার ৩৫৫টি শেয়ার মোট এক হাজার ৩৫৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৭২ লাখ এক হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১১৫ টাকা থেকে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ৬৫ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তিন শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দুই টাকা ৮৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্র্তী মুনাফা করেছে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

‘বি’ ক্যাটেগরির কোম্পানি ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন তিন কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে ঘাটতির পরিমাণ দুই কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে তিন শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। এ সময় ইপিএস করেছিল ৪১ পয়সা এবং এনএভি হয়েছিল ছয় টাকা ৪৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে ১৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল তিন পয়সা। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি হয়েছে তিন টাকা তিন পয়সা, এটি আগের বছর ছিল পাঁচ টাকা ২৯ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য-আয় (ইপি) অনুপাতে ১২৯ দশমিক শূন্য পাঁচ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৮০ দশমিক ২৯। কোম্পানির মোট ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ৫১২টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সাত দশমিক ৪৬ শতাংশ ও ৫৪ দশমিক ২৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আজিজ পাইপস লিমিটেড। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন এক কোটি ৮৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে সাত কোটি ৪৩ লাখ ১১ হাজার টাকার শেয়ার।

সর্বশেষ কার্যদিবসে শেয়ারদর চার দশমিক ১৫ শতাংশ বা সাত টাকা ১০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ১৬৩ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৬৪ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে এক লাখ ১৫ হাজার ১৬৬টি শেয়ার ৮৬৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৬৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ৬১ টাকা থেকে ১৮১ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাবছরের পাঁচ শতাংশ বোনাস শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে ৫৭ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যে দায় দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৭১ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ‘নো ডিভিডেন্ড’ দিয়েছিল। ১৮ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় লোকসান হয়েছে তিন টাকা ৪১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যে দায় দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫২ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছিল এক কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।

৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন পাঁচ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে ঘাটতির পরিমাণ ৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে ১১ পয়সা, যা এর আগের বছরের একই সময় ১৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে ইপিএস কমেছে তিন পয়সা। অন্যদিকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যে দায় ৫৩ টাকা ৫৯ পয়সা দাঁড়িয়েছে, যা একই বছরের ৩০ জনু পর্যন্ত ছিল ৫৩ টাকা ৭১ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা এসিআই ফর্মুলেশনস লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে আট দশমিক ১৭ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে আট কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

ডিএসইর গেইনার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল টিউবসের ছয় দশমিক ৮৪ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালসের পাঁচ দশমিক ৯২ শতাংশ, এটলাস বাংলাদেশের পাঁচ দশমিক ৪৬ শতাংশ, বিডি থাইয়ের পাঁচ দশমিক ৩৭ শতাংশ, হামিদ ফেব্রিকসের পাঁচ দশমিক ৩২ শতাংশ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালসের চার দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিট দর চার দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে।