কোম্পানি সংবাদ

সাপ্তাহিক লেনদেনের আট শতাংশ মুন্নু সিরামিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৫৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৩টি শেয়ার ২৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের আট দশমিক পাঁচ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর পাঁচ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ দিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর সাত দশমিক ৬১ শতাংশ বা ৩১ টাকা ৮০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩৮৬ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার মোট মূল্য ছিল ৩৭ কোটি ১২ লাখ ৬১ হাজার টাকা। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৩৮৮ টাকা ৯০ পয়সায়। ওইদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৮৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪২২ টাকায় হাত বদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১২৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৪৪৯ টাকায় ওঠানামা করে।
‘এ’ ক্যাটেগরির মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৯৭ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট তিন কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৭৪৭টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকের কাছে ৫৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
লেনদেনে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৩২০টি শেয়ার ১৪২ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের চার দশমিক ৭৯ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর চার দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ২২ শতাংশ বা আট টাকা ৮০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩৮৬ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার মোট মূল্য ছিল ১৩ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৩৮৮ টাকা ২০ পয়সায়। ওইদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৮৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৯৬ টাকায় হাত বদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৫৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৪২২ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৪০ টাকা ৮০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৪৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির ৮০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৭৯ কোটি আট লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৯৪৫ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৪৭ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার একটি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক পাঁচ দশমিক ৮৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ এবং চার দশমিক তিন শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
লেনদেনে শীর্ষ তিনে অবস্থান করে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। কোম্পানিটির সাত কোটি ৪৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৬টি শেয়ার ১২০ কোটি এক লাখ ২৭ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের চার দশমিক তিন শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর চার দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।
সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের এক কোটি ১২ লাখ ১৮ হাজার ৮০টি শেয়ার ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। এসব শেয়ার এক হাজার ৮৩২ বার হাতবদল হয়। শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি সর্বশেষ ১৫ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৬ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করে।
এ ক্যাটেগরির প্রিমিয়ার ব্যাংক ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৮০০ কোটি আট লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫১৫ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট আট কোটি ৮১ হাজার ৯৯টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে ৩৫ দশমিক ২২ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের, ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক এবং ৪৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি লিমিটেডের ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪১টি শেয়ার ১১৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা ছিল মোট লেনদেনের তিন দশমিক ৯১ শতাংশ। শেয়ারটির দর কমেছে ছয় দশমিক ৩৭ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা সিঙ্গার বাংলাদেশের ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৮টি শেয়ার ১০৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪১ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। শেয়ারটির দর ১০ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৯৯ লাখ ৪২ হাজার ৬০৮টি শেয়ার ৮৪ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। ফরচুন শুজের দুই কোটি ২৩ লাখ ১৪ হাজার ১৩৮টি শেয়ার ৮২ কোটি ৮৫ লাখ ২১ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। স্কয়ার ফার্মার ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৮টি শেয়ার ৮০ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় লেনদেন হয়। ন্যাশনাল পলিমারের ৭২ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৮টি শেয়ার ৬৭ কোটি চার লাখ আট হাজার টাকায় লেনদেন হয়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ৩৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫১টি শেয়ার ৬৩ কোটি ৪৭ লাখ ৮২ হাজার টাকায় লেনদেন হয়।

সর্বশেষ..