সাপ্তাহিক লেনদেন আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে

১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৯১ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৬৪ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর তিন দশমিক ১১ শতাংশ বা তিন টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১০৬ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১০৫ টাকা ৪০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫০১টি শেয়ার মোট তিন হাজার ৩১৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৮ কোটি এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৯৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৮১ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১৫৭ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
কোম্পানিটি ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাবছরের ১০ শতাংশ নগদ ও ২৫ শতাংশ বোনাস শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে চার টাকা ৩৭ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ১৪ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে ৩১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। এই সময় ইপিএস করেছিল চার টাকা ৪৮ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৭১ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল আট কোটি টাকা।
৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত এবং ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা তিন কোটি ৭৫ লাখ ৯৭ হাজার। এর বাজার মূলধন ৩৮৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কোম্পানির মজুদ অর্থের পরিমাণ ৩৫ কোটি এক লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের, ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও ৩৪ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু জুট স্টাফলারস লিমিটেড। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন এক কোটি ৮৫ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার শেয়ার।
সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১৫ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ দুই হাজার ২২৪ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল দুই হাজার ২০৯ টাকা ৭০ পয়সা। দিনজুড়ে পাঁচ হাজার ১৭৯টি শেয়ার ৫৬৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ১৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ দুই হাজার ১৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২৩৯ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৪৯১ টাকা থেকে দুই হাজার ৩২৫ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে ৫৭ পয়সা এবং এনএভি ৫২ টাকা ২৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানি ১৯৮২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির এক কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৬ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় ইপিএস করেছিল তিন টাকা ২১ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৫১ টাকা ৬৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
কোম্পানির মোট চার লাখ ৬০ হাজার শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৫৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ছয় দশমিক ৩৬ শতাংশ, বিদেশি দশমিক শূন্য তিন শতাংশ ও বাকি ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।
তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে চার কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে ২৩ কোটি ৩১ লাখ দুই হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির ২৯ লাখ ৫১ হাজার ১৩২টি শেয়ার মোট এক হাজার ২০৯ বার লেনদেন হয়। এর বাজারদর ছিল পাঁচ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেয়ারদর তিন দশমিক ১৭ শতাংশ বা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১৯ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৯ টাকা ৩০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৯ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ২১ টাকায় হাতবদল হয়।
কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৯ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি চার শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে ৪০ পয়সা এবং এনএভি ১৮ টাকা ৪৯ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি ১১ লাখ টাকা।
মোট দুই কোটি ৯১ লাখ আট হাজার ৪৬২টি শেয়ার রয়েছ। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দশমিক ১৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ৬৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে শাশা ডেনিমস, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস লিমিটেড।