কোম্পানি সংবাদ

সাফকো স্পিনিংয়ের দর বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বস্ত্র খাতের কোম্পানি সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে তিন কোটি ৫৩ লাখ চার হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের তিন শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৪২ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ১৮ টাকা ২০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি ২২ লাখ টাকা।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর ছয় দশমিক ৫৮ শতাংশ বা এক টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ২৪ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৪ টাকা ১০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৭৯৪টি শেয়ার মোট এক হাজার ৫২৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর চার কোটি ৩৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৪ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ১৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২৪ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
‘বি’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানি ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি চার শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় ইপিএস হয়েছে ৪০ পয়সা এবং এনএভি ১৮ টাকা ৪৯ পয়সা। এটি আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময় ছিল যথাক্রমে ৬৮ পয়সা ও ১৮ টাকা ৬৪ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি ১১ লাখ টাকা, যা আগের বছর (২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর) ছিল এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৩ কোটি ২০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট দুই কোটি ৯৯ লাখ ৮১ হাজার ৭১৬টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে ৩০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন চার কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার।
সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির তিন কোটি ২৮ লাখ ৭২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে সাত লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৮টি শেয়ার মোট ৯৪০ বার হাতবদল হয়। শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে তিন দশমিক ৩১ শতাংশ বা এক টাকা ৫০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৪৩ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৫৮ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ২৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯৮ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৪৪ টাকা সাত পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৬০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানিটি ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৭০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩৭৬ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫৮১ কোটি ৫৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৩৭ কোটি ৬৫ লাখ ১৬ হাজার ৯৩৯টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের মধ্যে সরকারি ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক তিন দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছয় দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ১২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার।
সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির ১৮ কোটি ২০ লাখ ৫৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৯ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৪টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৭৭৫ বার হাতবদল হয়। শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে তিন দশমিক ১০ শতাংশ বা ছয় টাকা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৯৯ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৯৯ টাকা ৬০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৮৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০৯ টাকা থেকে ২০৯ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। যা তার আগের বছরের সমান। আলোচিত সময় ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ২৮ পয়সা এবং এনএভি ৯৭ টাকা ৪১ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে আট টাকা ৮১ পয়সা ও ৮৮ টাকা ৩০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ২৪৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১৭৬ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাতে ১৬ দশমিক ২৫ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১১ দশমিক ২৬।

সর্বশেষ..