সামাজিক বন্ধন

মিজানুর রহমান শেলী: যাহোক, এখন অবশ্য সব সংবাদপত্র মালিকই বুঝে ফেলেছেন যে তারা তাদের চোখের মণি থেকে লেগে থাকা যুদ্ধের ময়দানে ধীরে ধীরে জায়গা হারাচ্ছেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়া এসেছে, ইন্টারনেট সুবিধা হয়েছে, স্যাটেলাইট ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এখন তাই সংবাদপত্র ধীরে ধীরে তার জায়গা হারাবে এটাই স্বাভাবিক। এমনকি এ ধারণা বা অনুমান করলে মনে হয় খুব বেশি ভুল হয় না, সে দিন বেশি দূরে নয়, যখন সংবাদপত্র বিলুপ্ত হবে। বার্কশায়ারের বিশাল সাম্রাজ্যে স্টান লিপসির একটি ভয়ঙ্কর কাজ হলো ‘বাফেলো নিউজ’ সফলভাবে চলতে পারা। আমি এর সম্পাদক মার্গওেঁ সুলিভানকে নিয়ে বেশ গর্বিত। এই পত্রিকা দেশের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে বাজার দখল করে আছে সফলভাবে। বলা চলে সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে রয়েছে। মেট্রোপলিটন সিটির মধ্যকার অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে আমরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হতে সক্ষম। এমনকি বাফেলোর জনপ্রিয়তা এবং ব্যবসায় প্রবাহ যে খুব ভালো তা বলা যাবে না।
তবে এসব ঘটনা এমন এক কঠিন চাপ সৃষ্টি করল যাতে করে মুনাফা প্রান্তিক স্তর থেকেও ছিটকে পড়ল। এটা সত্যি, আমরা বাফেলোর একটি অগ্রগামী অনলাইন সংস্কার চালাচ্ছি। ফলে আমরা অনেক বেশি পাঠক ও বিজ্ঞাপনকে আকৃষ্ট করতে পারছি। আসলে সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ অনেক বেশি তথ্য ও বিনোদন সরবরাহ করতে সক্ষম। এমনকি পাঠক কেবল ইন্টারনেট লাইনের সংযোগ রাখলেই বিনা খরচে এটা পড়তে পারে। এটা একটি পত্রিকার অর্থনৈতিক ভিত্তিটি শক্ত করতে সক্ষম হয়। তবুও এর যা আয় তা আগের দিনের পত্রিকার আয়ের এক ক্ষুদ্রাংশেরও সমান নয়। বিশেষ করে যখন সংবাদপত্রে তেমন কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না।
কোনো বাসিন্দার যদি একটি স্থানীয় পত্রিকার মালিকানা থাকে, তবে তা একটি স্পোর্টস টিম থাকার মতো জনপ্রিয়তা দেয়। এখন পর্যন্ত এটা একটি তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা এনে দিতে সক্ষম। এমনকি একই সঙ্গে পত্রিকার মালিকানা থাকা মানে খুব সহজভাবেই ক্ষমতা ও প্রভাব চলে আসা। যার ফলে অনেকেই এটাকে টাকার চেয়ে বেশি ভালোবেশে থাকেন। বিশেষ করে গণমুখী মানুষরা। আর এই গণমুখী মানুষ তার এলাকায় সেবার মান নিশ্চিত কিংবা জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য একটি পত্রিকা থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এজন্য ৪০ বছর আগে পিটার কিউইট ওমাহা পেপার কিনেছিল।
আর এটা হলো পত্রিকা বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বার্থের চেয়ে বেশি কিছু। অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ না করেই অনেকে পত্রিকার মালিক হচ্ছেন, পত্রিকা কিনছেন। এই চিত্রটা আমরা অনেক দিন আগে থেকেই দেখে থাকি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেক বিত্তশালীরা বড় বড় স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজ কিনে থাকে শখের বসে বা জনপ্রিয়তার তাগিদে। তবে উচ্চাভিলাষী পত্রিকা মালিকদেরও অনেক সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা এমন কোনো নিয়ম নেই যে সংবাদপত্রের রাজস্ব কখনও তার ব্যয়ের স্তরের নিচে নামবে না বা এর ক্ষয়ক্ষতি দিনে দিনে ছত্রাকের মতো ছড়িয়ে পড়বে না। সংবাদপত্র ব্যবসায় স্থায়ী খরচটা অনেক বেশি। তবে সংবাদপত্রের এই বাজার থাকছে না, ধীরে ধীরে অনেকেই এ ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে, ফলে সংবাদপত্রের আধ্যাত্মিক মর্যাদাও ক্ষুণœ হচ্ছে। কিন্তু স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজ তার মর্যাদা ও গৌরব সম্ভবত ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
যদি অপরিবর্তনীয় ক্যাশ ড্রেনের সম্মুখীন আমার না হয়, তবে এই সংবাদপত্র ব্যবসার সঙ্গে আমরা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারব। চার্লি ও আমি সংবাদপত্র পছন্দ করি। আমরা দিনে অন্তত পাঁচটা পত্রিকা পড়ি। এমনকি বিশ্বাস করি, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী সংবাদপত্র মহান গণতন্ত্রের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। তবে আমরা মনে করি, অর্থনৈতিক দুরবস্থার এ দিনে বিশেষ করে, সংবাদপত্র ব্যবসার দুর্দিনে যদি কোনো পত্রিকা তার ছাপা ও অনলাইন দুই সংস্করণেই দক্ষতার সঙ্গে টিকে থাকতে পারে, তবে সংবাদপত্র ব্যবসায় আর্থিক বিষয়-আশয় নিয়ে তাকে আর ভাবতে হবে না। এদিক দিয়ে আমরা আমাদের বাফেলোকে নিয়ে আরও অনেক বেশি খাটব বলে আশা রাখি, যাতে করে আমাদের পত্রিকাটি আগের চেয়ে আরও বেশি উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়। আমি মনে করি, বাফেলো হবে সংবাদপত্র ব্যবসায় একটি ব্যবসায়িক মডেল। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সফল হবো। তবে এটা মেনে নিয়েই আমাদের সফলতার অঙ্ক কষতে হবে যে আগের দিনের সেই সংবাদপত্র ব্যবসার রমরমা লাভের অঙ্কের দিন আর ফিরে আসবে না।

আমাদের দুটি খুব বড় ব্যবসা আছে। বিএনএসএফ [বার্লিংটন নর্দান শান্তা ফি রেইলরোড করপোরেশন] ও মিড-আমেরিকান এনার্জি। এ দুটি ব্যবসায় কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য ব্যবসার চেয়ে স্বাতন্ত্র্য হতে পেরেছে। এ দুটি কোম্পানিরই সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বিপুল পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি লগ্নি, শৃঙ্খলিত সম্পদ, এর অর্থসংস্থানে আছে দীর্ঘমেয়াদি বিপুল অঙ্কের ঋণ। তবে এই ঋণ বার্কশায়ার কর্তৃক জামিনকৃত নয়।
উভয় কোম্পানিই খুব শক্তভাবে তদারকির মধ্যে থাকে। তাছাড়া উভয় কোম্পানিরই প্লান্ট ও যন্ত্রপাতির বড় বিনিয়োগের চাহিদা শেষ হবে না। আবার উভয়েরই তার কমিউনিটি ও কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে সম্মান অর্জনের জন্য দক্ষ ও গ্রাহক-সন্তুষ্ট সেবা প্রদান করতে হয়। এমনকি উভয় কোম্পানিরই ভবিষ্যতের মূলধন বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট পরিমাণের ব্যবসায়িক রিটার্ন বা লভ্যাংশ নিশ্চিত করতে হয়।
রেলপথ আমাদের দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার ৪২ শতাংশ মালবহন আন্তঃনগর মালবহন করা হয় রেলপথে। টন-মাইলস হিসেবে এর পরিমাপ করা হয়। যে কোনো রেলপথের তুলনায় তা বেশি চলাচল করেÑসমগ্র কারখানা প্রয়োজনের ২৮ শতাংশ মালামাল এই রেললাইনে বহন করা হয়। এখানে একটি ছোট্ট হিসাব দেখাতে চাই, আমেরিকার বাকিসব আন্তঃনগর মাইল-টন রেল মোট যত মালবহন করে তার চেয়ে বিএনএসএফ ১১ শতাংশ বেশি মাল বহন করে।
আমরা আমেরিকার অর্থনীতির পরিবহন ব্যবস্থায় একটি প্রধান ও অবশ্যকীয় অংশ। এমনকি ২৩ হাজার মাইলের পথ আমাদের নিয়মিত উন্নয়ন ও মেরামত করতে হয়। এর সঙ্গে থাকে বিভিন্ন সেতু, টানেল, ইঞ্জিন ও কার। এই কাজগুলোর মাধ্যমে আমরা নিশ্চয় একটি সামাজিক সমর্থন পেয়ে থাকি। তাছাড়া এটা আমাদের সামাজিক দায়বোধের জায়গা পূরণ করে। এটা করতে গিয়ে আমরা আমাদের অবচয়ের চেয়েও অনেক বেশি অর্থ খরচ করে থাকি নিয়মিত। ২০১১ সালে এটা দুই বিলিয়ন ডলার ছেড়ে গিয়েছিল। আমি দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী, আমার অবশ্যই আমাদের ইনক্রিমেন্টাল বিনিয়োগ থেকে একটি বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ আহরণে সক্ষম হবো। বিচক্ষণ তদারকি আর বিচক্ষণ বিনিয়োগ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম।
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ।