সম্পাদকীয়

সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ কাম্য

৫ জুলাই সিলভারডেল স্কুলের ছাত্রী সামিয়া আফরিন সায়মাকে তারই বাসায় রাজধানীর ওয়ারীতে ধর্ষণের পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন পত্রিকায় একাধিক ধর্ষণের খবর আসছে। মাদ্রাসার শিক্ষক, উপসচিব, ইউএনওসহ সমাজের দায়িত্বশীলরা এমন অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ছাত্রীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। এ আন্দোলন ‘ইভটিজিং’ শব্দকে বাংলায় রূপ দিয়েছে।
ধর্ম মানুষের পবিত্রতম বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি, ধর্মীয় জ্ঞান আহরণ করে ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন করবে। মাদ্রাসাগুলোর কাছে এটাই প্রত্যাশিত। সেই মাদ্রাসা বা মসজিদের ইমাম এখন নারীর শ্লীলতাহানি ও কিশোর বলাৎকারের মতো অসামাজিক কাজে লিপ্ত। কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিভাবক। সেই অভিভাবক অসামাজিক কাজ করলে নারীর নিরাপত্তা কোথায়? ইউএনও যখন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণে জড়িয়ে পড়েন, তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়।
গত এক দশকে দেশের অবকাঠামোগত এবং আর্থিক অবস্থার ব্যাপক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দারিদ্র্য কমিয়ে আনতেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছরের বাজেটেও ব্যাপক বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য। কিন্তু সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়নে ধস নেমেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সব দুয়ার খুলে গেছে। একদিকে আকাশ সংস্কৃতির দৌরাত্ম্য, অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার। সেটি উন্নয়নের উপায়ও হতে পারে না। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ভালো কিছুর সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ও চলে আসছে। তাই এর বিপরীতে চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির চর্চাকেও জোরদার করতে হবে। আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা যতটা যতœবান, ঠিক ততটাই পিছিয়ে পড়েছি সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়নে। শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ করে এ পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
চলতি বছরের বাজেট ঘোষণার পর আমাদের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি ছিল এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর। কিন্তু বাজেট পাশের সময় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দে। বিষয়টি কতটুকু যুক্তিসঙ্গত, তা বিতর্কের বিষয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষত বাঙালি সংস্কৃতির ধারাকে বেগবান করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ এখনই গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় দৃশ্যমান উন্নয়ন থেকে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পাবে না। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ কামনা করছি।

সর্বশেষ..