টেলকো টেক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অফার বুঝে-শুনে-সাবধানে

সময়ের পরিক্রমায় অনলাইনে কেনাকাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে চলছে প্রতারণাও। অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অনেক সাধারণ গ্রাহক পণ্য কিনে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
অনেক সময় পণ্যের দাম পরিশোধ করলেও সময়মতো সরবরাহ না করার অভিযোগও পাওয়া যায়। প্রতারক ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পণ্য সরবরাহ করেন না। অনেক সময় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হয়। এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। আর এসবের বেশিরভাগই ঘটানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহার করে। নামমাত্র টাকায় এসব প্রতারকচক্র তাদের ফেসবুক পেজ প্রমোট করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে চটকদার অফার। চালাচ্ছে অকল্পনীয় প্রতারণা।
ইদানীং ফেসবুকজুড়ে প্রমোট করা এমন একটি পেজ ‘নকিয়া বাংলাদেশ’। মূলত ক্রেতা আকর্ষণের জন্য নকিয়া বাংলাদেশ নামে পেজ খোলা হয়েছে ফেসবুকে। বিভিন্ন অফারের কথা বলে প্রতারিত করছে সাধারণ মানুষকে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এমনই জানা গেছে।
মো. রনি হায়দার থাকেন রাজধানীর মিরপুরের ১০ নম্বরে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে অর্ডার করেন ‘নকিয়া ১১০০’ মডেলের ফোন। কিন্তু এর পরিবর্তে তাকে দেওয়া হয় চায়নিজ ফাইভ স্টার কোম্পানির ফোন। পরে সরবরাহকারীকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তারা তা ফেরত নিতে অস্বীকার করে। এমনকি ফেসবুক আইডি ও মুঠোফোন নম্বর ব্লক করে দেয়া হয়।
একই পেজ থেকে পণ্য কেনেন রাজশাহীর শাকিল রায়হান। তাকেও নকিয়া ৮১১০-এর পরিবর্তে দেওয়া হয় ফাইভ স্টার কোম্পানির ফোন, যা খুবই নিম্নমানের। পরিশোধিত অর্থ ফেরতের চুক্তি থাকলেও পরে তা অস্বীকার করে বসে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানটি। পরে যোগাযোগ করা হলে নানা অজুহাত দেখিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে গিয়ে দেখা যায়, ফেসবুক পেজের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান কাউকেই কাক্সিক্ষত পণ্য দিচ্ছে না, বরং নিম্নমানের ও নষ্ট ফোন দিচ্ছে গ্রাহককে।
নকিয়া বাংলাদেশের মতো আরও ফেসবুক পেজভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন আমার ডিলডটকম, ব্র্যান্ড শপ, এবি টেলিকম, শপিং জোন বিডি, লন্ডনবাজারডটকম, চয়েজবিডিডটকম, উইন্টার কালেকশন, স্মার্ট ফ্যাশন, গ্যালাক্সি মোবাইল শপ, মোবাইল শপ, মোবাইল সল্যুশন বিডি, আমার শপ ৩৬০, নকিয়া কালেকশন ২০১৯, ফ্যাশন গ্যালারিসহ এমন অনেক ফেসবুক পেজ। এদের অনেকে ‘সুপার কপি’ বলে স্মার্টফোন বিক্রি করলেও ক্রেতারা পাচ্ছেন নষ্ট আর অন্য ব্র্যান্ডের পুরোনো ফোন। আর যারা অরিজিনাল নকিয়া বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, তারা ক্রেতার কাছে পাঠাচ্ছে রেপ্লিকা বা অন্য কোম্পানির ফোন।
উল্লিখিত কারণে অনলাইন কিংবা ফেসবুকে কেনাকাটায় সাবধানতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি। এজন্য কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে:
# শুধু ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য না কেনাই ভালো
# পেজে ভালো রিভিউ ও পণ্যের দাম পরিশোধের ব্যবস্থা থাকলে অর্ডার করা যেতে পারে
# যেসব পেজের পোস্টে কোনো নেগেটিভ বা সমালোচনামূলক মন্তব্য নেই, তাদের বিশ্বাস করা ঠিক হবে না
# অফিসের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন
# ৬০ বা ৭০ শতাংশ ছাড় এমন আজগুবি অফার দেখে পণ্য কিনতে পা বাড়াবেন না
# সর্বোপরি দেখে-বুঝে-জেনে তারপর কাক্সিক্ষত পণ্যটি কিনুন
# প্রতারণার শিকার হলে অভিযোগ করতে পারেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে
# এজন্য লিখিত অভিযোগ ফ্যাক্স, ই-মেইল বা অন্য কোনো মাধ্যমে পাঠাতে পারেন
# অভিযোগের সঙ্গে পণ্যের রসিদ সংযুক্ত করুন
# অভিযোগকারী হিসেবে পূর্ণ নাম, বাবা ও মায়ের নাম, ঠিকানা, ফোন, ফ্যাক্স ও ই-মেইল (যদি থাকে), পেশা উল্লেখ করুন
জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রের ঠিকানা: টিসিবি ভবন, ৯ম তলা, ১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা; ফোন: ০১৭৭৭ ৭৫৩৬৬৮; ই-মেইল: nccc dncrp.gov.bd
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় অনলাইনভিত্তিক বাজারব্যবস্থা নিঃসন্দেহে বৈপ্লবিক পরির্বতন এনেছে। এজন্য প্রয়োজন ভোক্তাদের আস্থা অর্জন। হেনস্তা রোধে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভোক্তার আস্থা অর্জন করা আরও সহজ হবে।

এম আর মামুন

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */