সা ত কা হ ন: খন্দকার কাফি আনান

১৭ বছর বয়স কোনো বাধা মানে না। খেলার মাঠ অথবা কলেজের আড্ডায় বেশি দেখা যায়। এ বয়সে হয়তো জীবনের কোনো

ধরাবাঁধা নিয়ম থাকে না। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পায় না তারা। কেউ পড়শোনা কিংবা গবেষণায় বেশি ব্যস্ত আবার কেউ বা উদ্ভাবনে সময় পার করতে পছন্দ করেন। খন্দকার কাফি আনান সেই তরুণদের মধ্যে একজন।

গ্রামের বাড়ি জামালপুরে হলেও বেড়ে উঠেছেন রাজধানীতে। মা ব্যবসায়ী। বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধা। ২০১৫ সালে ব্রেন স্টোক করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তিন ভাইয়ের মধ্যে আনান ছোট।

চলতি বছরে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এ বয়সে ৩১টি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে দক্ষতার সঙ্গে কোড করতে পারেন কাফি আনান। নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গেমস ও অ্যাপ Digital Manush, Tricky Tap, Hit Me, E-Kolpona, Socializer প্রভৃতি। বিশ্বের ৯৬টি দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে Microsoft-এর প্রোগ্রাম Geek<a/> Code এ  ‘শ্রেষ্ঠ হাইস্কুল অ্যাপ ডিজাইনার’ হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন। কাফি আনান a2i ও জেলা প্রশাসনের ‘ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৮’ তে ‘শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবক’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তার উদ্ভাবিত Augmented Reality অ্যাপ E-Kolpona-এর প্রদর্শনী স্টল Digital World Expo অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। তার ‘ডিজিটাল মানুষ’ অ্যাপকে সাউথ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ অ্যাপ হিসেবে নির্বাচিত করেছে এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত অর্গানাইজেশন mBillionth South Asia। শুধু তাই নয়, তিনি উদ্ভাবনের পাশাপাশি অন্য অনেক কাজেও বেশ দক্ষ। বাংলাদেশের স্কুলভিত্তিক অন্যতম পরিবেশ ক্লাব Laboratorians’ Environment Club-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। পরিবেশ উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি Extracurricular activities এ আন্তর্জাতিক সংস্থা ASEF I UNESCOর কয়েকটি প্রাজেক্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দক্ষতা ও গুণাবলির বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে আয়োজিত ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ’ দেশব্যাপী প্রতিযোগিতায় ঢাকা জেলার ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি উদ্ভাবনীমূলক চিন্তাধারা ও কার্যকলাপের জন্য এক ডজনেরও বেশি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত ডিজিটাল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় তিনি আশাবাদী। তরুণ উদ্ভাবক মনে করেন এ দেশের সুবিশাল জনসংখ্যা একদিন সবচেয়ে বড় জনসম্পদ হবে।

 

মো. ইমরান হোসেন