সা ত কা হ ন: রাওমান স্মিতা

মানুষ স্বপ্নের পেছনে ছোটে। ‘স্বপ্ন’ নামক ছোট শব্দটিকে যে আয়ত্ত করতে পারে, সে-ই জীবনে সফল হয়। স্বপ্নের পেছনে না ছুটলে সফলতাও কঠিন রূপ ধারণ করে। ঠিক তেমনি রাওমান স্মিতা স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন। একে বাস্তবে রূপও দিচ্ছেন তিনি।
গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ির পাংশা উপজেলায়, বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। বাবা ব্যবসায়ী, মা গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবার ব্যাবসায়িক কাজের কারণে স্মিতাকে কয়েকটি বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে হয়েছে। ছিলেন বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। এসএসসি শেষ করেছেন নিউ মডেল হাই স্কুল ও এইচএসসি কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা) থেকে।
স্বাধীনচেতা নারী রাওমান স্মিতা। বাঁচতে চান মুক্ত পাখির মতো। ভর্তি হন ফার্মেসি বিভাগে। কিন্তু ছয় মাস পরে ফার্মেসি বিভাগ ছেড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা বিষয়ের ওপর ক্লাস করেন। ধরাবাঁধা নিয়ম তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না। নিত্যনতুন কাজ করা আর জানার প্রতি আগ্রহ তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
চ্যালেঞ্জ রয়েছে এমন কাজ করতে ভালোবাসেন রাওমান। ছবি আঁকতেও পছন্দ করেন এই তরুণী। তাই চারুকলাতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নেন কিছুদিন। পরে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে (ইউডা) একদিন আইন ক্লাস করে ভালো লেগে যায় বিষয়টি। তার দাদুও চাইতেন তিনি আইনজীবী হোন। ব্যাটে-বলে মিলে যায়। আইন পেশা স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ করে দেবে। আজীবন কাজের সুযোগ রয়েছে। স্বাধীনতা আছে এ কাজে। মানুষকে সাহায্য করার সুযোগও তো আছেই, আর বেশ চ্যালেঞ্জিংও বটে। এলএলবি শেষ করেন ইউডা থেকে। এলএলএম শেষ করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে। পরে থাইল্যান্ড থেকে লাইফ কোচিংয়ে ট্রেনিং নেন।
আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন রাওমান। বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী। প্রতিষ্ঠা করেছেন ল’ থিঙ্কারস ওয়ান স্টপ ল’ ফার্ম। বাংলাদেশে প্রথম অনলাইনে ফ্রি আইনি সেবা চালু তার হাত ধরেই। আইন বিষয়ে সহযোগিতা ও সচেতনতামূলক লেখাও তিনি প্রকাশ করেন। ফলে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা অনলাইনের মাধ্যমে ফ্রি আইনি পরামর্শ নিতে পারেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব দূর করে নতুন আইনজীবী ও আইনজগতের উন্নয়নে বড় পরিসরে সহযোগিতার লক্ষ্যে ‘গ্লোবাল ল’ থিঙ্কারস সোসাইটি’ সংগঠন গড়ে তোলেন। এছাড়া তিনি গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্ট নামে একটি ইন্টারন্যাশনাল সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
মানুষের উন্নত জীবন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ পৃথিবীর লক্ষ্যে তিনি লাইফ কোচিং ট্রেনিংয়ে অংশ নেন। পরবর্তীকালে ‘রাওমান স্মিতা-ইনসাইড আউট লাইফ কোচিং একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
‘থিওরি অব হ্যাপিনেস ইনসাইড আউট লাইফ কোচিং’ ও ‘স্মার্ট লইয়ার’ নামে দুটা বই এবারের বইমেলায় আসবে। বাচ্চাদের রঙিন প্রজাপতি নামে একটা বই আছে। আইনের ছাত্র ও তরুণ আইনজীবীদের আইন পেশায় শুরু থেকে প্রস্তুতি এবং কীভাবে ক্লায়েন্ট ডেভেলপ করবে সে বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে ‘স্মার্ট লইয়ার’ বইটি।
দেশ-বিদেশের তরুণসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নত জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে তার প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। সব শ্রেণির মানুষের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করলেও তিনি মূলত ট্রেনিং দিচ্ছেন তরুণদের।
ভবিষ্যতে স্বপ্ন দেখেন লাইফ কোচিং ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সুখী করার, পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার। ভালো মানুষ হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই এ বিশ্বাস নিয়ে তিনি কাজ করছেন।

মো. ইমরান হোসেন