সুশিক্ষা

সা ত কা হ ন: সাজ্জাক হোসেন শিহাব

শিশুদের কাছে ভালোবাসার একটি নাম সাজ্জাক হোসেন শিহাব। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বলা যায়, লিখতেই বেশি পছন্দ করেন লেখক সাজ্জাক হোসেন শিহাব। প্রতিনিয়ত লিখে চলেছেন গল্প, উপন্যাস ও ছোটগল্প। বিদায় নেওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলায় লেখকের ‘হুর রে’ নামক ছোটগল্প পাঠকপ্রিয় হয়েছে। শিশুদের কাছে স্বল্পসময়ে রঙিন মোড়কে মোড়া চার কালারের বইটি জনপ্রিয় হয়েছে।
এই তরুণ লেখক রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার একডালা গ্রামে বেড়ে উঠেছেন। শৈশব থেকে কৈশোরে পা দিয়েছেন গ্রামের কাদামাটি গায়ে মেখে। বাবা পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। মা গৃহিণী। বাবার স্মৃতি, মায়ের আদর ও পাঠকের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে আছেন এই ব্যস্ততম রাজধানীতে।
মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়েছেন একডালা উচ্চ বিদ্যালয়ে। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছেন বাগমারা কলেজ থেকে। কলেজের গণ্ডি পেরোলে সবারই নামকরা কলেজে পড়ার স্বপ্ন উঁকি দেয়। লেখকের মাঝেও হয়তো তখন সেই স্বপ্ন ডাল-পালা মেলেছিল। সেই স্বপ্ন থেকেই পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্নের পর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি নিয়েছেন।
মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। স্বপ্নের ভেতর ডুব দেয়। আবার স্বপ্ন পূরণের আশায় মাথা তুলে দাঁড়ায়, সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। একেকজন মানুষের স্বপ্ন অন্যজন থেকে হয় ভিন্ন। সাজ্জাক হোসেন শিহাবের স্বপ্ন ছিল অন্য দশ জন থেকে আলাদা। ছেলেবেলায় স্বপ্ন দেখতেন মানুষ হওয়ার, লেখক হওয়ার। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যেতে তারও ভূমিকা থাকবে। তার কলমের আঁচড়ে ফুটে উঠবে মানুষের কথা।
বর্তমানে একটি বস্ত্র কারখানার রফতানি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত সাজ্জাক। অফিসের প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে তাকে পাড়ি জমাতে হয় বিদেশে। কর্মসূত্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে লেখালেখির ভুবনে আসা। গল্পকার কথা বলেছেন, গল্পের মতো করে। বলেন, লেখালেখির শুরুটা শিশুকালে হয়েছে। ছোটবেলায় আমি গ্রামের পথ-ঘাট দিয়ে হেঁটে বেড়ানোর সময় আপন মনে নানা ধরনের ছড়া বলতাম, গল্প বাঁধতাম। ছন্দ মিলিয়ে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলতাম। তখন আমি সপ্তম শ্রেণিতে। স্কুল পরীক্ষায় ষড়ঋতুর বাংলাদেশ নিয়ে রচনা লিখতে হবে। লেখা শুরু করলাম। দেখলাম, যা লিখেছি তার সবই ছন্দের ফ্রেমে আটকা পড়েছে। একটা রচনা মূলত একটা বিশাল ছড়া হয়ে গেল। আমি পরীক্ষা শেষ করে ফলের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। ভয়ে ছিলাম। না জানি ম্যাডাম কী বলেন! ফল পাওয়ার পর আমার শঙ্কা কেটে গেল। আমি রেকর্ড পরিমাণ নম্বর পেলাম। তখনই নিজেকে ভিন্নভাবে আবিষ্কার করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেও গোপনে লিখতাম। ভর্তি হওয়ার পর শুরু হলো প্রকাশ্যে লেখালেখি। ছাত্রজীবনে বের হলো আমার প্রথম উপন্যাস ‘নিশির আঁধার’। সেই থেকে লিখে চলেছি। এখন পর্যন্ত আমার ১৪টি বই বের হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বস্ত্র প্রকৌশলের ওপর।
বর্তমানে তিনি চাকরি আর লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। মূলত তিনটি উপন্যাস নিয়েই এখন তার ব্যস্ততা। অনেক দিন ধরে ‘ঘোর’ নামের একটা দীর্ঘ উপন্যাস লিখছেন। তার ‘মহাদেশ-মহাকাল’ উপন্যাসটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে পাঠকের কাছে। পাঠকের অনুরোধে এর দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে কাজ করছেন লেখক। শিশুদের কথা মাথায় রেখে আগামী বইমেলায় ছোটগল্প ও ছড়ার বই নিয়ে মেলায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। তার ‘ধূপছায়া’ গল্পগ্রন্থ বেশ পাঠকপ্রিয় হয়। এর স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি এ গল্পগ্রন্থের বদৌলতে ‘দেশ পাণ্ডুলিপি-২০১৬ পুরস্কার’ অর্জন করেন সাজ্জাক।

ইমরান হোসেন

সর্বশেষ..