সিএসআরএম

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ইস্পাতশিল্পের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় সিএসআরএমের কথা। দেশের ইস্পাতশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এ প্রতিষ্ঠান। পরিণত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে। চাকদা স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস প্রাইভেট লিমিটেডের সংক্ষিপ্ত রূপ সিএসআরএম।

১৯৯২ সালে পথচলা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুর দিকে একটি ইউনিটে ৪০ গ্রেড রি-বার উৎপাদন করত তারা। প্রসঙ্গত, টেকনিক্যাল ভাষায় রি-বারকে কার্বন স্টিল বলা হয়। তখন মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ তাদের লক্ষ্য ছিল। কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহের জন্য গুণগত মানকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সেই থেকে। মানের প্রশ্বে কোনো আপষ করে না তারা। সংগত কারণে অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাদের পণ্য। বাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা। এজন্য নিজস্ব কারখানা নির্মাণ করে সিএসআরএম। এখানে আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে বিলেটসহ অন্যান্য পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। সঠিক মান বজায় রাখার জন্য প্রতি মাসে বুয়েটে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় তাদের পণ্য। বর্তমানে বিভিন্ন আকারের টিএমটি ও ৬০ গ্রেড রিবার তৈরি করছে তারা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয় এ পণ্যগুলো। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতেও একই ধারা অব্যাহত রাখবে তারা।

গ্রাহকের জন্য নিরাপদ পণ্য সরবরাহ করা সিএসআরএমের লক্ষ্য। গ্রাহক চাহিদাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় এখানে। তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পরিবহণসেবা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত সঠিক সময়ে, সঠিক দামের পণ্য সরবরাহ করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিন ও রাতের যে কোনো সময় গ্রাহকসেবা ও সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইস্পাত প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চায় সিএসআরএম।

ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. শাহজাহান ইসলাম। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন মো. জাকারিয়া (জাকি)। হেড অব সেলস মো. আমিনুল ইসলাম। পরিচালনা পর্ষদে আরও রয়েছেন মো. ইব্রাহিম সাকি। ব্যবস্থাপনা টিমের আন্তরিকতা, দূরদর্শিতা ও পরিশ্রমের ফসল সিএসআরএম।

দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীর সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে গ্রুপটির জনবল। কর্মীবান্ধব পরিবেশের তকমা পেয়েছে সেই শুরুতেই। কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করে থাকে সিএসআরএম। তাদের জন্য প্রচলিত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মাসের একটা নির্দিষ্ট সময় কর্মীদের বেতন বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বছরে বিভিন্ন ধরনের ভাতা দেওয়া হয় কর্মীদের। তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মপরিবেশ নিয়ে তাই কর্মীরা বেশ সন্তুষ্ট।

নির্মাণ খাতে সংশ্লিষ্টদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মশালা, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে নির্মাণশিল্পীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য।

নারায়ণগঞ্জের রসুলপুরে সুবিশাল কারখানা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। শুধু উৎপাদন ও বিক্রি বা ব্যবসায়িক উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করেনি সিএসআরএম, পরিবেশের গুরুত্বও বিবেচনায় রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের। পরিবেশের ওপর ইস্পাতশিল্পের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তারা অবগত। তাই সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এখানে। এজন্য ‘এয়ার পলুশন কন্ট্রোল সিস্টেম’ ব্যবহার করছে তারা। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ওপর খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রমতে, পরিবেশের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব যেন না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। পরিবেশের জন্য উপকারী সব ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয় এ প্রতিষ্ঠানে।

দীর্ঘ পথচলায় গ্রাহক ও ডিলারদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক মজবুত হয়েছে। একই সঙ্গে মানসম্মত পরিচালনা পদ্ধতি, প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য করে তুলেছে। এভাবে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় সিএসআরএম।

 

রতন কুমার দাস