সিএসআর ব্যয়ের নির্দেশনা মানছে না অধিকাংশ ব্যাংক

মেহেদী হাসান: করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে মোট ব্যয়ের মধ্যে শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ২০ শতাংশ এবং জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলে ১০ শতাংশ ব্যয়ের নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে এ খাতে ব্যয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানছে না অধিকাংশ ব্যাংক। আবার অধিকাংশ ব্যাংক এই কোটা পূরণও করতে পারেনি। এছাড়া বেশকিছু ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো ব্যয়ই করেনি।

সিএসআর-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের (জানুয়ারি-জুন, ২০১৭) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলো মোট ৩২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। তবে রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও উরী ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো ব্যয় করেনি। অন্যদিকে জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, ব্যাংক আল ফালাহ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের সিএসআর ব্যয় অতি নগণ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের স্বেচ্ছামূলকভাবে গৃহীত সিএসআর সংক্রান্ত ব্যয়ের অধীনে নির্ধারিত আটটি খাতে এ অর্থ ব্যয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্য খাত, জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল, পরিবেশবান্ধব খাত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাত, আয় উৎসারী কর্মকাণ্ড, সংস্কৃতি খাত ও অন্যান্য খাত।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ১২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং এর পরেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ৯৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে মোট ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সংস্কৃতি খাতে ২২ কোটি তিন লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাতে মোট ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

তথ্যমতে, আলোচ্য সময়ে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে মোট ১৬টি ব্যাংক শিক্ষা খাতে মোট সিএসআর ব্যয়ের শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ১৪টি ব্যাংক এ খাতে কোনো রূপ ব্যয়ই করেনি। তিনটি ব্যাংক ছয় থেকে ১০ শতাংশ, তিনটি ব্যাংক ১১ থেকে ১৫ শতাংশ, একটি ব্যাংক ১৬ থেকে ২০ শতাংশ ও তিনটি ব্যাংকের এ খাতে ব্যয়ের হার ২১ থেকে ২৫ শতাংশ। তবে আটটি ব্যাংক শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশের বেশি ব্যয় করেছে। আলোচ্য সময়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাংকগুলো মোট ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা মোট সিএসআর ব্যয়ের ১১ শতাংশ। এ সময়ে দেশের ৫৭টি তফসিলি ব্যংকের মধ্যে মোট ৩৩টি ব্যাংক স্বাস্থ্য খাতে মোট সিএসআর ব্যয়ের মাত্র শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ১৮টি ব্যাংক এ খাতে কোনো ব্যয় করেনি, সাতটি ব্যাংক মোট সিএসআর ব্যয়ের ছয় থেকে ১০ শতাংশ, একটি ব্যাংক মোট সিএসআর ব্যয়ের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ এবং দুটি ব্যাংক ১৬ থেকে ২০ শতাংশ সিএসআর ব্যয় করেছে। সিএএসআর ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত আটটি খাতের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ১৪টি ব্যাংক ২০ শতাংশের বেশি ব্যয় করেছে।

এদিকে জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলে অধিকাংশ ব্যাংক ব্যয় করলেও সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ও বিডিবিএল এ খাতে কোনো ব্যয় করেনি। ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টি ব্যাংক জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলে মোট সিএসআরের শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ২১টি ব্যাংক এ খাতে কোনো ব্যয় করেনি, দুটি ব্যাংক মোট সিএসআর ব্যয়ের ছয় থেকে ১০ শতাংশ ব্যয় করেছে ও ২৫টি ব্যাংক এ খাতে ১০ শতাংশের অধিক ব্যয় করেছে।