সিঙ্গারের মুনাফার ধারা অব্যাহত

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: মুনাফার ধারা অব্যাহত রেখেছে পুঁঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ। বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। একইভাবে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানির দায়িত্বশীলরা বলছেন, সিঙ্গারের প্রতি মানুষের আস্থা দীর্ঘদিনের। নতুন নতুন পণ্য, উন্নত হচ্ছে পণ্যের গুণগত মানের জন্যই ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া আর্থিক বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। ওই আর্থিক বছরে সিঙ্গারের বিক্রি ২৩ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ১১০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এতে পরিচালন মুনাফায় বেড়েছে ২৭ শতাংশ। ওই আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১১৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ৯৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা ছিল।
এদিকে সর্বশেষ আর্থিক বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ৩৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৪ কোটি ৬১ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয়ও (ইপিএস) একই হারে বেড়ে ৯ টাকা ৭৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। যা এর আগে ২০১৬ সালে সাত টাকা ১২ পয়সা ছিল। আর সর্বশেষ সমাপ্ত আর্থিক বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সিঙ্গার। এর আগে ২০১৬ সালে ৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
সময়োপযোগী নতুন পণ্য বাজারে আনা, বিভিন্ন বিল পরিশোধসহ আর্থিক সেবা প্রদান ও পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে- বলে মনে করছেন সিঙ্গারের দায়িত্বশীলরা। কোম্পানিটির করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায় নতুন নতুন পণ্য যোগ হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে পণ্যের গুণগত মানও বাড়ছে। সম্পদ-জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিজস্ব পণ্যের পাশাপাশি আমরা অন্য ব্র্যান্ডের পণ্যও বিক্রি করছি। বিভিন্ন আর্থিক সেবা দিচ্ছি। এসব কারণে আমাদের আয় বেড়েছে, যার সুফল আমরা পাচ্ছি।’
অবশ্য শুধু এবারই নয়, কয়েক বছর ধরেই এগোচ্ছে সিঙ্গার। বিগত পাঁচ বছরে সিঙ্গারের বিক্রি বেড়েছে ৬৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর বিপরীতে মুনাফা বেড়েছে ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর প্রভাবে এ সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আর এগিয়ে থাকার ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী দিনগুলোতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রিটেইল ও হোলসেল ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি।
এদিকে সন্তোষজনক লভ্যাংশ প্রদানের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সিঙ্গারের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন ১৭৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। দিনজুড়ে এ দর ১৭২ টাকা থেকে ১৭৬ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে। আর গত এক বছরে এ কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ২০৭ টাকা ৯০ পয়সা ও সর্বনি¤œ ১৬৪ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
উল্লেখ্য, বহুজাতিক সিঙ্গার বাংলাদেশ ১৯০৫ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। দেশজুড়ে সিঙ্গারের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৮০টিতে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরেও দেশে আরও প্রায় ৫০০টি ডিলার আউটলেট রয়েছে। সেলাই মেশিন ও কিস্তিতে বিক্রির মাধ্যমে তারা সবার কাছে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে কোম্পানিটির পণ্যসম্ভার অনেক বড়। বর্তমানে সিঙ্গার বাংলাদেশের ৫৭ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক রিটেইল হোল্ডিংস বিহোল্ড বি.ভি।
১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৭৬ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৫৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১২ দশমিক ৭৬, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০ দশমিক ৪৪ ও বাকি ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হচ্ছে নতুন নতুন শিল্প। রাজধানীর চারপাশে বিভিন্ন এলাকার নামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ‘শিল্পাঞ্চল’ শব্দটি। পুরোনো-নতুন খাতে বিনিয়োগকে ঘিরে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য বাড়ছে। এতে উš§ুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার, তৈরি হচ্ছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। রাজধানীর আশেপাশের এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের আজ ছাপা হচ্ছে তৃতীয় পর্ব