বিশ্ব সংবাদ

সিরিয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত কৃষি অর্থনীতিকে চাঙা করতে উদ্যোগ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত কৃষি অর্থনীতিকে চাঙা করতে কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে মুরগি ও পোলট্রি ফিড বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে সিরিয়া সরকার। ইতোমধ্যে এমন একটি প্রকল্পে ২০ লাখ ডলার অর্থ বরাদ্দও করেছে দেশটি। খবর: এএফপি।
সিরিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক পরিবার ১৫টি করে ডিমপাড়া মুরগি ও ৫০ কেজি পোলট্রি ফিড পাবেন। এর মধ্যে এক বিলিয়ন সিরিয়ান পাউন্ড বা ২০ লাখ ২০ হাজার ডলার বরাদ্দ পেয়েছে এ প্রকল্প। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পোলট্রি কৃষিকে উৎসাহিত করা এবং গ্রামীণ কৃষি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা প্রকল্পটির লক্ষ্য। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অদূরে পূর্ব গোতা এলাকার কৃষি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুহিদ্দিন বলেন, ‘দেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার খামার মালিকরাও অন্তর্ভুক্ত থাকছেন প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের মধ্যে।’ স্থানীয়ভাবে এসব মুরগি ও পোলট্রি ফিড প্রক্রিয়াজাত করা হবে বলে জানান তিনি।
কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং তাদের জমি পুনরায় আবাদ করাই থাকছে এ উদ্যোগের বৃহৎ পরিকল্পনায়। কৃষকদের বীজ এবং প্রাণিসম্পদের জন্য ওষুধ ও টিকা সরবরাহের পাশাপাশি সেচের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, ২০১১ সালে যুদ্ধ শুরুর আগে সিরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দ্বিতীয় প্রধান খাত ছিল কৃষি। জিডিপির ১৯ শতাংশ এ খাত থেকে আসতো। অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ২৫ শতাংশ ছিল কৃষির সঙ্গে জড়িত। দেশটির রফতানি আয়ের বড় খাতও ছিল কৃষি। পশুসম্পদ রফতানি করে প্রতি বছর ৪৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হতো তাদের।
চলতি বছরে সিরিয়ার সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আট বছরের যুদ্ধে সিরিয়ার কৃষি উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। কৃষি জমি, শস্য এবং কৃষি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদনে এমন ধস নামে। ২০১৫ সালে বিদ্রোহীদের রাশিয়া-সমর্থিতদের বিজয়ের পর এখন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে দেশটির ৬০ শতাংশভূখণ্ড। কিন্তু যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষতিসাধিত হওয়ায় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বলছে, সিরিয়ার সাড়ে ৬০ লাখ মানুষ ‘খাদ্য অনিরাপত্তার’ মধ্যে আছে। যারা জানেন না, তাদের পরবর্তী বেলার খাবার কোথা থেকে আসবে।

সর্বশেষ..