বিশ্ব বাণিজ্য

সুদহার কমানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: শিগগিরই সুদহার কমানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল। এ সময় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়গুলোয় ভবিষ্যতের বিষয়ে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে সুদহার দুই দশমিক ২৫ থেকে দুই দশমিক ৫০-এর মধ্যে নির্ধারণ করে রেখেছে ফেডারেল রিজার্ভ। খবর: রয়টার্স, বিবিসি।
ফেডের চেয়ারম্যান এ সতর্কবার্তা এমন এক সময় উচ্চারণ করলেন, যার মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার বিষয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ফেডের এ সিদ্ধান্ত বাণিজ্যযুদ্ধের একটি প্রত্যক্ষ ফল বলেও মনে করা হচ্ছে।
সুদহার কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেও সুদহার কমানোর জন্য চাপ প্রয়োগের প্রমাণ দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি টুইট করেছেন। যেখানে সুদহার না কমিয়ে অর্থনীতি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধীর করে দেওয়ার জন্য ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও তার চাপেও এতদিন সুদহার কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি ফেডারেল রিজার্ভ।
হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কমিটিতে যোগ দেওয়ার আগে এক লিখিত এজাহারে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি অন্যান্য বড় অর্থনীতির দুর্বলতা এবং বাণিজ্যযুদ্ধের ভীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগের নিম্নমুখী প্রবণতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন।
জেরোমি পাওয়েল বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। বাণিজ্যের দৃশ্যমান অগ্রগতিও বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। গত ডিসেম্বর থেকে সুদহার দুই দশমিক ২৫ থেকে দুই দশমিক ৫০-এর মধ্যে নির্ধারণ করে রেখেছে ফেডারেল রিজার্ভ।
তবে গত মে থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সমালোচনা শুরু করলে বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অবস্থান বদলানো শুরু করে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষ দিকে ফেডের নীতিনির্ধারকরা সুদহারের এক শতাংশীয় পয়েন্টের অন্তত এক-চতুর্থাংশ কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাওয়েলের ওই ঘোষণার পর ডলারের মূল্যমান কিছুটা কমেছে। এছাড়া পুঁজিবাজারের লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা সত্ত্বেও সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেল রিজার্ভ। তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ থাকায় চলতি বছর সুদহার কমানো হতে পারে বলে তখন জানানো হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত ছিল এক বছরের মধ্যে চতুর্থবারের মতো সুদহার বৃদ্ধির ঘটনা। বৈঠকে চলতি বছর অর্থনীতির গতি কিছুটা ধীর হতে পারে বলে জানানো হয়।

সর্বশেষ..