সম্পাদকীয়

সুদহার চাপিয়ে দেওয়া বাজারবিরোধী

মুক্তবাজার অর্থনীতি, আমানত প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি এবং মূল্যস্ফীতির সন্নিবেশিত আর্থসামাজিক কাঠামোতে একটি নির্দিষ্ট অঙ্গে ব্যাংকের ওপর সুদের হার চাপিয়ে দেওয়াটা বাস্তবতা বিবর্জিত বলেই মনে হয়। অর্থনীতির ভাষায় মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সুদহার নির্ধারণ হয় বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে। এ বাস্তবতা উপেক্ষা করে বেঁধে দেওয়া সুদের হারে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন অপকৌশল করতে বাধ্য হবে। বস্তুত সুদহার নির্দিষ্ট করে প্রজ্ঞাপন জারি করার আগে সরকারকে অবশ্যই বাস্তবতা তলিয়ে দেখতে হবে।
এ বিষয়ে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। গত এক বছরে সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে সরকার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নানা দেন-দরবার করেছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমার হার এবং রেপো রেট কমিয়ে আনার সুবিধা নিয়েও সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি রাখেনি বেসরকারি ব্যাংক। এ ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের না করেই এবং আমানত সুদের হার ছয় শতাংশে নির্ধারণ করে ঋণ সুদের হার এক অঙ্কে নির্দিষ্ট করে দেওয়াটা কার্যত অযৌক্তিক। এভাবে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কৃতিচর্চায় অন্তরালের অস্বচ্ছতা তীব্রতর হতে পারে। কিন্তু কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই ২০১৬-১৭ সালে ঋণসুদের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসার দৃষ্টান্তও আমাদের সামনে রয়েছে। এক্ষেত্রে বাজারের স্বাভাবিক প্রবণতায় এক অঙ্কে ঋণ সুদ নামা প্রতিযোগিতার চলকে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে। আবার কখনও কখনও তা অনেক উঁচুতেও উটে যেতে পারে। অন্যদিকে যখন সরকার সুদহার বেঁধে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তখন ব্যাংকগুলো সচেতনতার সঙ্গেই সুদহার না কমানোর ফন্দি আঁটতে পারে বলে যদি মনে হয় তবে তার জবাবে এ কথা আসে যে, স্বাভাবিক প্রবণতায় এক অঙ্কে নামার দলিল খুবই কম; এটা নিয়মিত দশা নয়। তাই বলা যায় জোর করে চাপিয়ে দিলে, দুর্বল সুশাসনের অবকাঠামোয় ব্যাংকিং সংস্কৃতি আরও বেশি নাজুক হয়ে যেতে পারে। ব্যালান্স শিট গোপন করা ও ঋণ বিতরণ কমিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আবার সরকারি আমানত রাখার ক্ষেত্রে ব্যাংকার ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন আতাত হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার রয়েছে কি না, তা যাচাই করার দাবি উঠেছে।
তবে ধীরে ধীরে পর্যবেক্ষণের আওতায় ভালো গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এক অঙ্ক সুদহারে ঋণ দেওয়া যায় কি না, মূল্যায়নে সরকার যথাযথ উদ্যোগ নেবে বলে মনে করি।

 

সর্বশেষ..