সুদহার বেশি হওয়ায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ছেন উদ্যোক্তারা

বিএসইসি’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন। তিনি পুঁজিবাজার সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। পুঁজিবাজার মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জায়গা, কিন্তু আমাদের দেশে সেরকম হচ্ছে না। বুঝে-শুনে শেয়ারে বিনিয়োগের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য আমাদের দেশের সবাই ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল, যে কারণে বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। যখন ব্যাংকের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, তখন সুদের হার উচ্চপর্যায়ে চলে যায়। ফলে দেশের উদ্যোক্তারা অন্য দেশের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও উদ্যোক্তারা পাঁচ-ছয় শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে শিল্পকারখানা করছে। সেখানে আমাদের দেশে যদি তা ১২-১৩ শতাংশ হয়, তাহলে শুরুতেই তো উদ্যোক্তারা অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। আর এটির একটি বড় কারণ হচ্ছে ব্যাংকের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়া। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আবদুর রহিম হারমাছি এবং আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হাসান খসরু, এফসিএ।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বিএসইসির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১২ তারিখে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রীও এসেছিলেন এবং তিনি পুঁজিবাজার সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজার মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জায়গা, কিন্তু আমাদের দেশে সেরকম হচ্ছে না। বুঝে-শুনে শেয়ারে বিনিয়োগের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ করলে দেখবেন, ইকুইটির জন্য আমাদের দেশের সবাই ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল, যে কারণে বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, যখন ব্যাংকের চাহিদা অনেক বেড়ে যায় তখন সুদের হার উচ্চপর্যায়ে চলে যায়। যেমনটা আমাদের দেশে হয়েছে। ফলে দেশের উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সময় বলে থাকে, সুদের হার এত বেশি হওয়ায় অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সুবিধায় তারা পিছিয়ে পড়ে। যেখানে উন্নত দেশগুলো বাদেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে উদ্যোক্তারা পাঁচ-ছয় শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে শিল্পকারখানা করছে, সেখানে আমাদের দেশে যদি তা ১২-১৩ শতাংশ হয় তাহলে শুরুতেই তো উদ্যোক্তারা অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। আর এটির একটি বড় কারণ হচ্ছে ইকুইটির জন্য ব্যাংকের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়া। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সরকারের এত শীর্ষপর্যায় থেকে এমন কথা আগে কখনোই শোনা যায়নি। তার এই কথাটি যদি বাজারসংশ্লিষ্ট সবাই গুরুত্বসহ নিয়ে সেভাবে কাজ করে, তাহলে সেটি বাজারের জন্য খুবই ভালো হবে।
আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজার নিয়ে ভাবেন এবং তিনি বাজারকে একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চান। বাজারের প্রতি তিনি খুবই আন্তরিক তা আসলে তার বক্তব্যের মাধ্যমে মনে হয়েছে। ২০১০ সালের বাজারধসে যেসব বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। এ ব্যাপারে বাজারসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তখন তিনি ৯০০ কোটি টাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দিয়েছিলেন এবং আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থাও করেছিলেন। তাছাড়া গত ১২ তারিখের বক্তব্যে তিনি বেশকিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্দেশে। পাশাপাশি তিনি বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন করার কথাও বলেছেন এবং বড় প্রকল্পগুলোর বিনিয়োগ যেন এখন থেকে আর ব্যাংকমুখী না হয়ে পুঁজিবাজারমুখী হয়, সে কথাও বলেছেন। সব মিলিয়ে সরকারের পুঁজিবাজারের প্রতি বেশ আন্তরিকতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
মো. হাসান খসরু বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা আমরা লক্ষ করেছি। অনেক ব্যাপারে তিনি নিজেও হস্তক্ষেপ করেছেন, যাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার থেকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে না হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুন্দর একটি দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০৪৩ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারই হবে দেশের অর্থ সরবরাহের প্রধান উৎস। যেমনটি তিনি বলেছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এবং তার অনেক প্রতিফলনও আমরা দেখতে পাচ্ছি বর্তমানে। তাই সব মিলিয়ে সামনে পুঁজিবাজারের গভীরতা অনেক বাড়বে বলেই মনে করি।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম