বাণিজ্য সংবাদ

সুপার শপে ভেজাল পণ্য বিক্রি গ্রাহক আস্থাই প্রতারণার হাতিয়ার!

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: পবিত্র রমজান উপলক্ষে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে দাম বেশি রাখা, পচা-বাসি খাবার বিক্রয়, ভেজাল খাবারসহ নানা ধরনের অসংগতি উঠে আসছে বড় বড় সুপার শপে। অথচ এসব অভিজাত শপের প্রতি ক্রেতার আস্থা ও নির্ভরতা ছিল। এ সরল নির্ভরতাকে পুঁজি করে এসব দোকান মালিকরা ক্রেতা সাধারণের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করেছে। যা নিরাপদ খাদ্য আইনের লঙ্ঘন। এ নিয়ে সচেতন ক্রেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে।
জেলা প্রশাসন, ক্যাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা আছে। যারা ক্রেতাদের নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করবে। কিন্তু সংস্থাগুলো ব্যর্থতায় প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন হচ্ছে ক্রেতার অধিকার। শুধু রমজান মাসে আসলে সক্রিয় হয় সরকারি বিভিন্ন সংস্থাগুলো। তাদের অভিযানে দাম বেশি রাখা, পচা-বাসি খাবার বিক্রয়, ভেজাল খাবারসহ নানা ধরনের অসংগতি উঠে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরে র‌্যাবের অভিযানে অভিজাত সুপার শপ খুলশী মার্টের ফ্রিজ থেকে বিপুল পরিমাণ পচা মাছ-মাংস পাওয়া যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইদিনে র‌্যাব শহরের আফমি প্লাজার আগোরা সুপার শপে ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ দই-দুধ, পচা মাছ-মাংস বিক্রির দায়ে সুপার শপ মালিককে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আখতারুজ্জামান।
এদিকে জেলা প্রশাসনের অভিযানে জিইসি এলাকার অভিজাত রেস্টুরেন্ট বাসমতিতে অভিযান চালিয়ে ফ্রিজ ভর্তি রান্না করা বাসি মাছ-মাংস জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন তাহমিলুর রহমান এবং মো. তৌহিদুল ইসলাম।
শুধু এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, তালিকায় আছে ক্ষুদ্র দোকান থেকে বড় শিল্প গ্রুপ পর্যন্ত। এর মধ্যে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান জামান হোটেল, তাবা রেস্টুরেন্ট, ক্যান্ডি, ফুলকলি, মধুবন, ওয়েলফুড, পুষ্টি, ফ্রেশ, তীর, রূপচাঁদা, ড্যানিশ, প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির উল্লেখযোগ্য। অথচ এসব অভিজাত শপের প্রতি ক্রেতার আস্থা ও নির্ভরতা ছিল।
বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাদ্য উৎপাদনে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, মাছ ও ফলে ফরমালিন, অন্যান্য প্যাকেটজাত খাবারে ভেজাল ও ক্ষতিকারক রং ব্যবহার বন্ধে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু আইন প্রণয়নের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও এটি শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। এ আইনে খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর দায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। এ আইন প্রয়োগ করা হলে এত অপরাধ হতো না। এক্ষেত্রে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা পাণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি সবার অধিকার। প্রথমতো জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। জনগণ যদি এসব অভিযুক্ত দোকানগুলো বর্জন করে কিংবা বেশি দামে বিক্রয় করলে কম কম (পরিমাণ) কিনেন। আর খাদ্য গ্রহণে অনেক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি বিক্রতারও নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। কারণ তিনি তো নির্ধারিত দামে বিক্রয় করছেন। তাহলে তিনি প্রতারণা করবেন কেন? এর জন্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বরেন, বাজার মনিটরিং করতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জিইসি এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অভিজাত রেস্টুরেন্ট বাসমতিতে একাধিক ফ্রিজ ভর্তি রান্না করা বাসি মাছ-মাংস পাওয়া যায়। বাসি এসব মাছ-মাংসই গরম দিয়ে ক্রেতাদের কাছে পরিবেশন করা হয়। যা নিরাপদ খাদ্য আইনের লঙ্ঘন। এ কারণে রেস্টেুরেন্ট ম্যানেজার দিলীপ এস রোজারিওকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বাসি মাছ-মাংস জব্দ করা হয়।
র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি মো. মাশকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নগরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও সুপার শপে র‌্যাবের ভোজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিজাত সুপার শপ খুলশী মার্টের ফ্রিজ থেকে বিপুল পরিমাণ পচা মাছ-মাংস জব্দ করে হয়। তিনি আরও জানান, খুলশী মার্টে অভিযান চালানোর পর একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাভা রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় রেস্টেুরেন্টের ফ্রিজ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস, মাশরুম, ডালডা, বেসন রাখার দায়ে রেস্টুরেন্ট মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

সর্বশেষ..