এসএমই

সুরত আলীর লাভজনক ফলবাগান

আম, লিচু, পেয়ারা, খেজুর, ড্রাগন, লটকন, নারিকেল, রামবুটান প্রভৃতি ফলের গাছ রয়েছে সুরত আলীর বাগানে। এসব ফলের পাশাপাশি তার বাগানে নতুন অতিথি হয়ে এসেছে শরিফা। ভিয়েতনামের এ ফলটি খেতে খুবই সুস্বাদু। এ ফলের চাষাবাদ বেশ সহজ, একই সঙ্গে লাভজনক। ড্রাগন, লিচু ও পেয়ারা চাষে আশানুরূপ সফলতা আসায় প্রতিনিয়ত চাষের জমি ও নতুন ফলের চাষ করে চলেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শিবনগরের বাসিন্দা সুরত আলী।
ভালো মুনাফা পাওয়ায় এ বছর ১২ বিঘা থেকে বাড়িয়ে ১৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন সুরত। অন্যান্য ফলের চাষের জমি বৃদ্ধি না করলেও এ বছর তিনি নতুন ফল শরিফার চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে ৫০ শতক জমিতে চাষ শুরু করলেও তার লক্ষ্য তিন একর। এছাড়া আড়াই বিঘা জমিতে চায়না কমলার চারাও লাগিয়েছেন। নতুন এ দুটি ফল ড্রাগনের তুলনায়ও লাভজনক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার শিবনগর দাস পাড়ার মাঠে এ কৃষি ফার্মটির অবস্থান। এখানে পাঁচ ধরনের ড্রাগনসহ, হিমসাগর, ল্যাংরা, আম্রপালি, মোজাফফর লিচু, ভারতে থেকে আনা টিস্যু কালচার খোরমা খেজুর, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের পেয়ারা, সিডলেস পেয়ারা ও টিস্যু কালচার নারিকেল গাছ রয়েছে।
সুরত বলেন, এ ধরনের বিদেশি ফসল চাষে সময় লাগে বেশি। খরচও তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই ঝুঁকি নিয়ে চাষ শুরু করলেও গাছে ফল আসতে শুরু করায় এখন তিনি আশাবাদী। ভিন্নধর্মী এ-জাতীয় ফসলের চাষ শুরু করতে তাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন তারই ভাগ্নে কৃষিবিদ ড. রুস্তম আলী। তার আর্থিক সহযোগিতা ও পরামর্শে লাভজনক ফার্মে পরিণত হয়েছে এটি।
২০১৬ সালের শেষের দিকে নিজের বাড়ির পতিত জমি, শিবনগর ভাটাসংলগ্ন মাঠ ও দাসপাড়ার মাঠের চার একর জমিতে পেয়ারা, চার একর জমিতে ড্রাগন, দেড় একর জমিতে আম, প্রায় দুই বিঘা জমিতে লিচু ও বাকি জমিতে রামবুটান, লটকন, খেজুর, নারিকেল ও কলা চাষ করেন। তার ফার্মে এখন প্রতিদিন সাত থেকে আট শ্রমিক কাজ করেন।
সুরত জানান, তার ভাগ্নে ঢাকার একটি নার্সারি থেকে শরিফা এনে দেন। ব্যতিক্রমী এ ফলের চাষ-সম্পর্কিত সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ তিনিই দিচ্ছেন। ড্রাগন চাষ প্রসঙ্গে বলেন, দেড় বছর বয়সি গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে ফল পাকতে শুরু করে। সাধারণত ফুল আসার ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফল পেকে যায়। একটি পরিপুষ্ট পাকা ফলের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। বছরে তিন থেকে চার মাস ফল সংগ্রহ করা যায়। ড্রাগন গাছ একবার লাগালে ওই গাছ থেকে কমপক্ষে ১০ বছর ফল পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে ড্রাগন কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা যায়। ঢাকার বাজারে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ বছর ৫০ শতক জমিতে ভিয়েতনামের ফল শরিফা চাষ শুরু করেছেন। তিন একর জমিতে এ ফলের চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। এ ফলের গাছ একবার লাগালে আজীবন ফল পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ১০০টি চারা লাগানো যায়। প্রতিটি চারা ৮০০ টাকা দরে কিনেছেন। গাছ লাগানোর প্রায় দুই বছর পর ফল পাওয়া যায়। মে থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এ ফল সংগ্রহ করা যায়। একেকটি ফল ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের হয়। একটি পরিণত গাছ থেকে বছরে ৮০ থেকে ১০০ কেজি ফল পাওয়া যায়। শরিফার বর্তমান বাজারদর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল করিম বলেন, কালীগঞ্জে ফল চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা ফলচাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। নিয়মিত খোঁজখবর নিই।

নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ

 

 

সর্বশেষ..