সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে

পাঠকের চিঠি

একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র যত বেশি শক্তিশালী হবে সে দেশ তত বেশি উন্নয়নের পথে ধাবিত হবে। ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশও উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তার শাসনামলেই বাংলাদেশ ২০১৬ সালে প্রকাশিত মানব উন্নয়ন সূচকে ১৮৮টি দেশের মধ্যে ১৩৯তম স্থানসহ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে এবং গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ ভালো অবস্থান বজায় রেখেছে। এছাড়া বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুও দৃশ্যমান হয়েছে, বিপুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দান করে বাংলাদেশ বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এতৎসত্ত্বেও বাংলাদেশের এতসব সাফল্যের আড়ালে কিছু স্থায়ী সমস্যার সমাধান আজও সম্ভব হয়নি, আর তা হলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ভঙ্গুর গণতন্ত্র। বিদ্যমান এ সমস্যাগুলোর কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ বারবার সমালোচিত হয়ে আসছে, যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ইতিহাস সুখকর নয়, মূলত সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দুরদর্শী রাজনৈতিক নেতার অভাবে। কাজেই অস্থিতিশীল রাজনীতি আর ভঙ্গুর গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে দুর্নীতি, দারিদ্র্য, দুর্বল অর্থনীতি, জিডিপির স্থবিরতা, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, যেমন তেল, গ্যাস, চাল ও কাঁচামালের ঊর্ধ্বমুখী দাম বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এসবের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত হতে হয় সমাজের দরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষকেই। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহামদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন বাংলাদেশে রাজনীতি বেশি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি মনোযোগ কম। রাজনীতি ও দেশ কারা শাসন করছে তা নিয়ে না ভেবে মূলত দেশের সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর উচিত দেশের উন্নয়ন ও বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করা।

ঠিক তেমনিভাবে ২০১৮ সালে সব সমস্যা সংকটের বিস্ময় ছাড়িয়ে নির্বাচনই হবে রাজনীতির প্রধান ইস্যু। বিশেষ করে সুশীল সমাজ, মধ্যবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, বিশ্লেষকসহ সবাই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মনে করছেন। বিগত নির্বাচনের মতো গণতন্ত্রশূন্য ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাতে বিরাজ না করে সেজন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ সমঝোতা করুক। নির্বাচনটা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হয়, সেটাই জনমানুষের প্রত্যাশা। নির্বাচনের জন্য সময় বাকি আছে আর মাত্র এক বছরেরও কম। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই এখনও বিপরীত অবস্থানে আছে বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। কাজেই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় দলের উচিত হবে আলাপ-আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে যাওয়া, যা দেশের রাজনীতিকে স্থিতিশীল ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অনেকাংশে সহায়ক হবে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে আমরা অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। আশা করা যায়, উপরোক্ত সমস্যাটিও সমাধান করতে আমরা সক্ষম হব, যাতে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। অন্যথায় আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য না হলে চূড়ান্তভাবে দেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে এবং দেশ এগিয়ে যাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

 

মো. মনজুরুর রহমান

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর