সুস্থভাবে ফিরে আসার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন উপ-প্রধান (চলতি দায়িত্ব) নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, অন্যজন সিনিয়র সহকারী প্রধান উম্মে সালমা। গতকাল তারা অফিসে এসে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেন। এ সময় সুস্থভাবে যাতে ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য সহকর্মীদের দোয়া চেয়েছিলেন তারা।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টেগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) নামক একটি সংগঠন আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে যোগ দিতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে গতকাল ঢাকা ছাড়েন ওই দুই কর্মকর্তা। ৭৮ আসনের ড্যাশ ৮ কিউ-৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে বিধ্বস্ত হয়। এসটু-এইউজি নামে নিবন্ধিত ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়েছিল দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে।

জানা যায়, গতকাল সকালেই তাদের নেপাল যাত্রার বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) হয়। তাই কালও তারা অফিসে এসে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দেন। জিইডির সহকারী প্রধান শিমুল সেন জানান, সিনিয়র সহকারী প্রধান উম্মে সালমা উড্ডয়নের আগেও তাকে ফোন করেছিলেন। এ সময় তিনি সুস্থভাবে ফিরে আসার বিষয়ে দোয়া চেয়েছিলেন।

জিউডি সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। এ সময় তারা সফলভাবে অনুষ্ঠানটিতে যোগদান ও ভালোভাবে ফিরে আসার বিষয়ে দোয়া চেয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘মূলত ওই সেমিনারে আমার যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আমি যেতে পারিনি বলে প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পাঠিয়েছিলাম।’

উম্মে সালমা রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার বাসিন্দা। তার দেড় বছর বয়সী একজন কন্যা সন্তান আছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজধানীর বারিধারারা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের অফিসে ছুটে আসেন তার বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ। বোনের জন্য আহাজারি করতে থাকনে তিনি।