সু লু ক স ন্ধা ন কায়রো

আফ্রিকা মহাদেশের জনবহুলতম শহর কায়রো। মিসরের রাজধানীটির প্রসিদ্ধি এর ঐতিহাসিক বাতাবরণে। প্রাচীন আমলের ধুলো ঝেড়ে আধুনিক বৈভবে গা ভাসিয়েছে শহরটি। বহুরূপী এক নগরী এটি। মুগ্ধতার নেই কোনো শেষ।
ফারাও রাজবংশ ও নীলনদের দেশ মিসর। দেশটির প্রধানতম শহর কায়রো। এখানে রয়েছে অনেক পিরামিড।
‘কায়রো’ শব্দটি এসেছে ‘আল-কাহিরা’ থেকে। এর অর্থ ‘বিজয়ী’। সরকারি নথিপত্রে এ শহরের নাম ‘আল-কাহিরা’। কায়রোর বাসিন্দাদের বলা হয় ‘মাসরাওয়েয়া’।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ফাতিমিদ খলিফাদের হাতে কায়রোর গোড়াপত্তন হয়। কালের স্রোত বেয়ে মামলুক, অটোম্যান তুর্কি, এমনকি সম্রাট নেপোলিয়নও এ শহর শাসন করেছেন। মিসরের এক শাসক মোহাম্মদ আলী কায়রোকে রাজ্যের রাজধানীর তকমা দেন।
কায়রোর এক প্রান্তে রয়েছে ভিক্টোরিয়ান ভিলা, সুন্দর রাস্তা ও ঝকঝকে দোকান। শহরের অন্য প্রান্তে হতশ্রী অনেক বাড়ি। মজার বিষয়, কর দেওয়ার ভয়ে রঙের পোচ দেন না মালিকরা।
কায়রো দেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি বাজার খান-এল-খালিলিতে না যাওয়া হয়। অসংখ্য গলির সংমিশ্রণে এই বাজার। সবকটা গলি প্রায় এক মনে হয়। সরু গলির কৌশারি ও কাবাবের সুঘ্রাণ যে কোনো পর্যটককে আকর্ষণ করে। একই সঙ্গে সুফি গানের মূর্ছনায় মোহিত হন তারা। রাস্তার দু’পাশে কয়েক ধাপ নামলেই বাজারের মধ্যে গিয়ে পড়তে হয়। পাথরের মূর্তি, পিরামিড, স্ফিংস, প্যাপিরাস পেইন্টিং, গয়না, শাল, হুকা প্রভৃতি পাওয়া যায়। আর দর-কষাকষিও চলে সমানে।
বাজার চত্বরের প্রায় সব গলিতে রয়েছে চায়ের দোকান। চা-কে এখানে শাই বলে। তবে চাপাতার সঙ্গে মেশানো থাকে পুদিনা পাতা। এর সঙ্গে ‘কিছু-মিছু’ বলতে বাকলাভা বা পাউরুটি।
আমাদের রাজধানীর মতো কায়রোতেও প্রায় একই ট্রাফিক নিয়ম। যেমন সিগন্যালের আলো নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। হুড়োহুড়ি করে রাস্তা পার হওয়া বা প্রায় অন্ধের মতো আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা মারতে যাওয়ার আগে কোনোরকমে ব্রেক কষার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
কায়রোর মজাদার খাবারের মধ্যে রয়েছে কাবাব, ফুল মুদাম্মাস, কৌশারি, জেবনা মাকলেয়া, বামিয়া ও বাকলাভা। প্রচুর পরিমাণ রসুন থাকে। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার কৌশারি। খুব কম দামে সম্পূর্ণ ডিশ। খাবারটি ডাল, মটরশুঁটি ও চাল দিয়ে তৈরি করা হয়।

রাহুল সরকার