সূচকের পতন কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না

রুবাইয়াত রিক্তা : সূচকের নিম্নমুখী গতি কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। একটানা ১২ কার্যদিবস ধরে সূচকের গতি পতনমুখী। সূচকের একটানা এত দীর্ঘসময় পতন ইতিপূর্বে খুব একটা দেখা যায়নি। অর্থমন্ত্রীর আশ্বাস, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা ধরনের পদক্ষেপ, কৌশলগত অংশীদার নির্বাচন কোনো কিছুই সূচকের পতন ঠেকাতে পারছে না। সূচকের এ গতি দেখে মনে হচ্ছে পাঁচ হাজার পয়েন্টে না পৌঁছানো অবধি এর পতনমুখী বেগ থামবে না।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ১৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। কমেছে প্রায় ৭৬ শতাংশ কোম্পানির দর। সব খাতেই বেশিরভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ছয়টি খাতে একটি কোম্পানির দরও বাড়েনি। এসব খাত হচ্ছেÑপাট, কাগজ ও মুদ্রণ, সেবা ও আবাসন, চামড়া শিল্প, টেলিযোগাযোগ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় ২৩ শতাংশ বা ৯৯ কোটি টাকা। মাত্র ২৫ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। এ খাতের মুন্নু স্টাফলার, ইস্টার্ন কেব্লস ও জিপিএইচ ইস্পাত দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। এছাড়া বিএসআরএমের ৩০ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে দুই টাকা ৫০ পয়সা। ওয়েস্টার্ন মেরিনের প্রায় ১৭ কোটি টাকার লেনদেন হলেও দর কমে এক টাকা ১০ পয়সা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লেনদেন হয় ১৯ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ২৬ শতাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও নতুন লেনদেন শুরু হওয়া ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের দর প্রথম দিনেই ৩৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া কোম্পানিটির ৪৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। যা এ খাতের মোট লেনদেনের ৫৫ শতাংশ। এছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ারের ১৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র ও ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ করে। বস্ত্র খাতে ২০ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। এ খাতের কুইন সাউথের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। এভিন্স টেক্সটাইলও দর বৃদ্ধির শীর্ষে অবস্থান করে। ব্যাংক খাতে মাত্র ২০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের সাড়ে ১২ কোটি টাকার লেনদেন হলেও দর কমে তিন শতাংশের বেশি। মুন্নু সিরামিকের ১৩ কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে দুই শতাংশ। অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে মাত্র ছয় প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে। এর মধ্যে তিনটি ফান্ড দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে।