সূচকের পতন ঠেকিয়েছে ওষুধ ও প্রকৌশল খাত

শেখ আবু তালেব: পুঁজিবাজারের মৌলভিত্তির বিবিধ, ওষুধ এবং রসায়ন ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারের হাত ধরেই পতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন। এ সময়ে পাট খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকায় লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে সদ্যসমাপ্ত সপ্তাহে আগের চেয়ে। গত সপ্তাহে চীনা কনসোর্টিয়ামের অর্থছাড়ের খবরে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও কাক্সিক্ষতহারে হয়নি। এ সময়ে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সাধারণ বিনিয়োগকারীও সতর্ক অবস্থানে ছিল। ফলে সব খাতের শেয়ারে লেনদেন তেমন একটা হয়নি।
ডিএসইর পুরো সপ্তাহের লেনদেনের তথ্যও বাজার বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে। জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ নেতিবাচক থাকার পরে ১ নভেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ডিএসইর সূচক ও লেনদেন ইতিবাচক হয়। এ সময়ে অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ে। কিন্তু রাজনৈতিক সংকট গত সপ্তাহে বেশি দেখা দেয় আগের সপ্তাহের চেয়ে। ফলে এ সময়ে চীনা কনসোর্টিয়ামের অর্থছাড় হলেও বাজারে প্রবেশ করেনি সেভাবে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক অবস্থানে ছিল। ফলে লেনদেনে অংশগ্রহণ কমেছিল গত সপ্তাহের প্রথম কয়েক কার্যদিবসে। এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল পাট, ওষুধ ও প্রকৌশল খাতের শেয়ার। ফলে পতনের হাত থেকে রক্ষা পায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
ডিএসই তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩৪৮টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এতে দর বৃদ্ধি পায় ১৫৯টির, কমেছে ১৬২টির, অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির ও লেনদেন হয়নি চারটির।
খাতভিত্তিক লেনদেনের হিসাবে পাট খাতের কোম্পানি সবচেয়ে বেশি গেইন করেছে। খাতটির শেয়ারদর গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক শূন্য এক শতাংশ গেইন করে। অপরদিকে পতনের ধারায় সর্বোচ্চ দর হারায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের শেয়ার। এ সময়ে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের সপ্তাহের চেয়ে কমলেও সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সাত দশমিক আট শতাংশ। এতে বোঝা যায়, অনেক খাতের শেয়ারের পতন হলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতের শেয়ারই হাতবদল হয়েছে বেশি।
লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ ছিল বস্ত্র খাতের শেয়ারের। পতনমুখী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অংশগ্রহণ ছিল ১৭ শতাংশ। এছাড়া ওষুধ খাতের ১২ শতাংশ, প্রকৌশল খাতের ১১ শতাংশ, ব্যাংক খাতের পাঁচ শতাংশ, জীবন বিমা খাতের দুই শতাংশ, আইটি খাতের চার শতাংশ, সিমেন্ট খাতের এক শতাংশ ও টেলিকম খাতের এক শতাংশ অংশগ্রহণ ছিল।
খাতভিত্তিক লেনদেনের পাশাপাশি একক কোম্পানি হিসেবে ৩৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ গেইনার নিয়ে শীর্ষে ছিল হাক্কানি পাল্প। এরপরই দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সায়হাম টেক্সটাইল। কোম্পানিটি সপ্তাহ শেষে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও তৃতীয় হিসেবে এমএলডায়িং ৩২ দশমিক ৭২ শতাংশ অবদান রাখে লেনদেনে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে দর হারানোর তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিল বিতর্কিত কোম্পানি স্টাইলক্র্যাফট। কোম্পানিটি গত সপ্তাহে শেয়ারদর হারায় ৭৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। এরপরই রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং।