সূচকের বড় পতন ঠেকিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাত

রুবাইয়াত রিক্তা: সপ্তাহের প্রথম দিনে নেতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। শেয়ার বিক্রির চাপে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ৬২ শতাংশ শেয়ারের দরপতন হয়। অন্যদিকে মাত্র ২৮ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল।
ব্যাংক ও আর্থিক খাত ছাড়া বাকি প্রায় সব খাতে শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল, যার কারণে এসব খাতে বড় ধরনের সংশোধন হয়। তবে দুর্বল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন। আর এজন্য তারা বেছে নিয়েছেন ব্যাংক খাতকে। আর ব্যাংক খাতের পাশাপাশি আর্থিক খাতও ইতিবাচক অবস্থানে যাচ্ছে, যদিও আর্থিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভালো ফলাফল দেখাতে পারেনি।
গতকাল বস্ত্র খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হলেও এ খাতে ৭৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। এ খাতে লেনদেন হয় ২১১ কোটি টাকা, যা ছিল মোট লেনদেনের ২৮ শতাংশ। দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে পাঁচটি ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি। আমান কটন ফাইব্রাস, জুট স্পিনার্স, ড্রাগন সোয়েটার, দুলামিয়া কটন ও শাশা ডেনিমসের দর সাত থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ২৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। সায়হাম টেক্সটাইলের ২৬ কোটি টাকার, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের সাড়ে ১৭ কোটি, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও রিজেন্ট টেক্সটাইল উভয়েরই সাড়ে ১৬ কোটি টাকা করে এবং আমান কটন ও হামিদ ফেব্রিকসের ১৫ কোটি টাকা করে শেয়ার লেনদেন হয়। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৯ শতাংশ। এ খাতে ৭২ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। এ খাতের দেশবন্ধু পলিমার দরবৃদ্ধির শীর্ষ ন’য়ে অবস্থান করে। এছাড়া প্রায় ৩৭ কোটি টাকার শেয়ার বেচাকেনা হওয়ায় বিবিএস কেব্লস লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে। ইফাদ অটোসের ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশ। লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এ খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে, কমেছে একটির দর এবং চারটি অপরিবর্তিত ছিল। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, এসআইবিএল, ঢাকা ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। আর্থিক খাতে ৬০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। ওষুধ ও রসায়ন, টেলিযোগাযোগ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাত শতভাগ নেতিবাচক অবস্থানে ছিল। বাকি খাতগুলোতে বেশিরভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল।