সূচকের মিশ্রাবস্থায় বেড়েছে লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে গতকাল ইতিবাচকভাবেই লেনদেন শেষ হয়েছে। যদিও শেষ সময়ে বিক্রির চাপে সূচক অনেক নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স ও ডিএস৩০ সূচক ইতিবাচক থাকে। তবে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক নেতিবাচক অবস্থানে চলে গেছে। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকে ডিএসইএক্স সূচকের উত্থান হতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১টার পর প্রায় ১০০ পয়েন্ট উত্থান হয়। এরপর সামান্য কমে প্রায় স্থিতিশীল অবস্থানে থেকে লেনদেন চলতে থাকে। তবে বেলা ১টার পর থেকে বাড়াতে থাকে শেয়ার বিক্রির চাপ। ফলে নেমে যেতে থাকে সূচক। শেষ পর্যন্ত প্রায় আট পয়েন্ট ইতিবাচক অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ হয়। লেনদেন ২৭ কোটি টাকা বেড়ে ১১০০ কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি সূচক ইতিবাচক থাকলেও লেনদেন কমেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাত দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বা দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৩৭৯ দশমিক ২৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক চার দশমিক শূন্য তিন পয়েন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ কমে এক হাজার ২৬৬ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক তিন দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৯১৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন কমে তিন লাখ ৮৫ হাজার ৮১১ কোটি টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় এক হাজার ১১৫ কোটি ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৮৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। এদিন ২৯ কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৮১৩টি শেয়ার দুই লাখ ১৬ হাজার ৬৫৭ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৪১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ১৫৭টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির দর।
গতকালও টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বিক্রির চাপে শেয়ারটির দর কমেছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পেনিনসুলা চিটাগংয়ের ৩৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল আরএসআরএম স্টিল, বিবিএস কেব্লস, বেক্সিমকো লিমিটেড, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, ইউনাইটেড পাওয়ার, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, কনফিডেন্স সিমেন্ট ও ব্র্যাক ব্যাংক। সর্বোচ্চসংখ্যক শেয়ার লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে দি পেনিনসুলা চিটাগং। কোম্পানিটির এক কোটি ৯ লাখ ১৭ হাজার ২৩টি শেয়ার ৩৪ কোটি ২৭ লাখ টাকায় লেনদেন হয়। এর পরের অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, কেয়া কসমেটিকস, প্যাসিফিক ডেনিমস, ফু-ওয়াং ফুড, সালভো কেমিক্যাল, আরএসআরএম স্টিল, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, জেনারেশন নেক্সট। ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। এরপর পেনিনসুলার দর ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ, বেঙ্গল উইন্ডসরের দর ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের দর ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।
আট দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে আজিজ পাইপস দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে। এরপর সাত দশমিক ৪৪ শতাংশ দর কমে বসুন্ধরা পেপার মিলসের। ড্রাগন সোয়েটারের দর কমে সাত দশমিক ২২, এপেক্স ফুডের সাত দশমিক শূন্য ছয় এবং প্যাসিফিক ডেনিমসের দর ছয় শতাংশ কমেছে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৫৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৬৮ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৬৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৫০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ১২২টির, অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দর।
সিএসইতে এদিন ৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৫ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬২ কোটি ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের নেতৃত্ব দেয় বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এছাড়া দি পেনিনসুলার দুই কোটি ৮২ লাখ, বসুন্ধরা পেপার মিলসের দুই কোটি ৮২ লাখ, প্যারামাউন্ট টেক্সের দুই কোটি ৭৪ লাখ, ড্রাগন সোয়েটারের দুই কোটি ২৭ লাখ, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের দুই কোটি ১৩ লাখ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স দুই কোটি পাঁচ লাখ, কুইন সাউথের এক কোটি ৮০ লাখ, বিবিএস কেব্লসের এক কোটি ৫৬ লাখ, আরএসআরএম স্টিলের এক কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।