কোম্পানি সংবাদ

সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: উভয় পুঁজিবাজারে সূচক ও অধিকাংশ শেয়ারদরে পতন অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। সে সঙ্গে কমেছে সবগুলো সূচক। বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনের পাশাপাশি সবগুলো সূচকে বড় পতন হয়েছে। লেনদেন সামান্য বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতেই বিক্রির চাপে সূচকে পতন নেমে আসে। বেলা ১২টার পর কেনার চাপ বাড়লে সূচক আগের দিনের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট বাড়লেও সাড়ে ১২টার পর ফের নেমে যায় সূচক। প্রথম ১০ মিনিট সূচক বাড়লেও এরপর টানা পতন শুরু হয়। বেলা পৌনে ২টায় আরেকবার কেনার চাপ বাড়লেও শেষ মুহূর্তে সূচকের পতন হয়। লেনদেন শেষে ১৪ পয়েন্ট নেমে যায় সূচক। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা দশমিক ২৭ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৩১৮ দশমিক ৬১ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক পাঁচ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ৪২ শতাংশ কমে এক হাজার ২১৬ দশমিক ২৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক চার দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ কমে এক হাজার ৮৮৬ দশমিক ১৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ ৯২ হাজার ৯৩৩ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৪২৪ কোটি ৬৬ লাখ এক হাজার ১০৬ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪১৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এদিন ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৯২টি শেয়ার এক লাখ ১৮ হাজার ৩১৯ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫৩ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৬টির, কমেছে ১৯৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে আট টাকা ৭০ পয়সা। এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রানার অটোমোবাইলসের ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা। রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে সাড়ে চার টাকা। জেএমআই সিরিঞ্জের সাড়ে আট কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে ১৮ টাকা। এর পরের অবস্থানে থাকা সিলকো ফার্মার আট কোটি ৪২ লাখ টাকার, স্কয়ার ফার্মার আট কোটি ২৬ লাখ টাকার, ইউনাইটেড পাওয়ারের সাত কোটি ৯৮ লাখ টাকার, প্রগতি লাইফের পৌনে আট কোটি টাকার ও সিঙ্গার বিডির সাত কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে প্রগতি লাইফ। রানার অটোর দর ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, রূপালী লাইফের ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের পাঁচ দশমিক ১১ শতাংশ, নর্দান ইন্স্যুরেন্সের পাঁচ দশমিক শূন্য চার শতাংশ ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের দর পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান। এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ডের দর সাত দশমিক ৮৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়া আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের দর সাত দশমিক ৫৭ শতাংশ, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সাড়ে সাত শতাংশ, এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সাত দশমিক ৪০ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সাত দশমিক ৩১ শতাংশ, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের সাত দশমিক শূন্য এক শতাংশ, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের ছয় দশমিক ৯৭ শতাংশ, পিএইচপি মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের ছয় দশমিক ৬৬ শতাংশ ও প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ছয় দশমিক ৬৬ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ২৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বা দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৮৭৯ দশমিক ১৫ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১৬ হাজার ২৯০ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৬৩ কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ১৫৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির দর।
সিএসইতে এদিন ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭৫ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ১৯ লাখ ৭৭ হাজার ১৬ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে তিন কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে রানার অটো। কোম্পানিটির ৮৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর বিডি ফাইন্যান্সের ৬৫ লাখ টাকার, বসুন্ধরা পেপার মিলের ৬২ লাখ টাকার, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ৫০ লাখ টাকার, ডরিন পাওয়ারের ৪৯ লাখ টাকার, সিলকো ফার্মার ৪৭ লাখ টাকার, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ৪২ লাখ টাকার, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের ৩৪ লাখ টাকার, বিবিএস কেব্লসের ৩১ লাখ টাকার, বেক্সিমকোর সাড়ে ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

সর্বশেষ..