সূচক বাড়লেও তারল্য সংকটে লেনদেন সংকুচিত

রুবাইয়াত রিক্তা: টানা তিন কার্যদিবসে ২০৪ পয়েন্ট সূচক পতনের পর গতকাল লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। কিন্তু বেশি সময় তা স্থায়ী হতে পারেনি। বিক্রির চাপে সূচক নেমে যেতে থাকে। তবে শেষদিকে কেনার চাপে মাত্র ১১ পয়েন্ট বেড়েছে সূচক। খুব ধীরগতিতে ছিল বাজার। তারল্য সংকটে গতকাল লেনদেন আরও নেমে গেছে। তবে শেয়ার কেনার কিছুটা চাপ থাকায় প্রায় ৫৮ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। চলতি বছরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দাবি জানিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের দাবি আমলে না নেওয়াতে সম্প্রতি তারা পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ করে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। যার কারণে এ তারল্য সংকটের সৃষ্টি। পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার স্বার্থে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলোকে দ্রুত বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

গতকাল ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ১৬ শতাংশ বা প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হলেও মাত্র ৪৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৫ শতাংশ বা ৩৪ কোটি টাকা। এ খাতে ৬৭ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ৭১ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতের ৫৫ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০-এ উঠে আসে বস্ত্র খাতের কুইন সাউথ টেক্সটাইল ও সায়হাম টেক্সটাইল। এছাড়া খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ৭৭ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। সিরামিক খাতে ৬০ শতাংশ শেয়ারদর বাড়ার পাশাপাশি মুন্নু সিরামিক দর বৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে উঠে আসে। আর্থিক খাতে ৩৯ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের এফএএস ফিন্যান্স ও বিজিআইসি দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এছাড়া বীমা খাতের এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স ও ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে। গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে মুন্নু সিরামিক। কোম্পানিটির ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হওয়ার পাশাপাশি শেয়ারটির দর বেড়েছে চার টাকা ৪০ পয়সা। এছাড়া গ্রামীণফোনের সাত কোটি টাকা, ইফাদ অটোস সাড়ে ছয় কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক ছয় কোটি, স্কয়ার ফার্মার প্রায় ছয় কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। তবে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর শীর্ষ ২০টির অধিকাংশই ছিল জেড ক্যাটেগরির। এ গ্রুপের ইমাম বাটনের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। বেক্সিমকো সিনথেটিকস ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক সাত দশমিক ৬৪ শতাংশ, জুট স্পিনার্স সাত দশমিক ৬১ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ ৭ শতাংশ, দুলামিয়া কটন ছয় দশমিক ৩৮ শতাংশ, বিডি ওয়েল্ডিং ছয় দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়েছে।