সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা প্রাইমারি মার্কেটে

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: স্বস্তিতে নেই সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘদিন থেকে এই মার্কেটের অবস্থা করুণ। হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া প্রায় সব খাতের শেয়ারদরই নিম্নমুখী রয়েছে। ফলে লাভের মুখ দেখছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সেকেন্ডারি মার্কেটের পতনের ধাক্কা লেগেছে আইপিওর বাজার বা প্রাইমারি মার্কেটেও। এ বাজার থেকেও শেয়ারের কাক্সিক্ষক দর পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। কাজে আসছে না ক্ষতিগ্রস্তদের আইপিও কোটা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে আইপিওর বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকে। পুঁজিবাজার ভালো থাকায় তখন শেয়ারের কাক্সিক্ষত দর পান আইপিও বিজয়ীরা। কিন্তু পরে বাজারে দরপতন শুরু হলে দ্রুত এর প্রভাব পড়ে বাজারে। আইপিও আবেদনে কঠিন প্রতিযোগিতা থাকলেও কাক্সিক্ষত দর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বাজারে আইপিওর সংখ্যা বেশি থাকলেও এখান থেকে সন্তোষজনক রিটার্ন পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।
সর্বশেষ লেনদেন শুরু হওয়া এমএল ডায়িংয়ের আইপিওতেও বিনিয়োগকারীদের ভালো সাড়া লক্ষ করা যায়। কোম্পানির প্রতিটি লটের জন্য বিনিয়োগকাকারীদের আবেদন জমা পড়ে ৩১ গুণের বেশি। কিন্তু লেনদেন শুরু হলে এই শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের তেমন আগ্রহ লক্ষ করা যায়নি। লেনদেন শুরুর দিন এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয় ২৪ টাকায়, যা আইপিও বিজয়ীদের মনঃপূত নয়।
তাদের অভিমত, সেকেন্ডারি মার্কেট ভালো থাকলে এই শেয়ারের দর আরও অনেক বেশি হতো। সেকেন্ডারি মার্কেট ভালো না থাকার প্রভাব পড়েছে প্রাইমারি মার্কেটে। তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দর কম নয়। প্রথম দিন শেষে ১০ টাকার শেয়ার ২৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এটাকে কম দর বলা যায় না। এমন হলে শেয়ার অতি মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ কম হয়।
এ প্রসঙ্গে ডিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, ‘আইপিওর বাজারে সবসময়ই সেকেন্ডারি মার্কেটের একটি প্রভাব দেখা যায়। এ মার্কেট ভালো থাকলে প্রাইমারি মার্কেটও ভালো থাকে। আবার সেকেন্ডারি মার্কেটের অবস্থা মন্দা থাকলে এ প্রভাবও দেখা যায়। তবে আমি মনে করি, এটা ঠিক নয়। কোম্পানি প্রাইমারি কিংবা সেকেন্ডারি মার্কেট যেখানেই থাকুক না কেন, এর দর নির্ধারণ হওয়া উচিত প্রতিষ্ঠানটির মৌলভিত্তির ওপর। আবেগে কোনো শেয়ার অতিমূল্যায়িত করার কোনো অর্থ নেই।’
এদিকে প্রাইমারি মার্কেটের অবস্থা এমন থাকলে আইপিওতে কোটা কোনো কাজে আসবে না বলে মনে করছেন কোটাধারী বিনিয়োগকারীরা। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানান, কোটার মেয়াদ বাড়ানো অবশ্যই ভালো উদ্যোগ, তবে এর আগে সেকেন্ডারি মার্কেট ঠিক করতে হবে। এ মার্কেট ঠিক না হলে আমাদের জন্য কোটার মেয়াদ বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ সেকেন্ডারি মার্কেট ভালো না থাকলে প্রাইমারি মার্কেট থেকে লোকসান পোষানো কঠিন। ফলে এটা তাদের কোনো কাজে আসবে না।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সেকেন্ডারি মার্কেটের অবস্থা নাজুক। দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারের মন্দা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। মাঝে মধ্যে বাজার কিছুটা ইতিবাচকধারায় ফিরলেও তা স্থায়ী হতে পারছে না। যে কারণে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের অনুকূলে থাকলেও এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। কারণ এই মার্কেট থেকে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীকে এখন লাভের বদলে লোকসানের হিসাব করতে হচ্ছে। আর এ মার্কেটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে প্রাইমারি মার্কেটে।