সেম রেডিমিক্স কংক্রিট লিমিটেড

সাইফ ইউ আলম: স্থাপনা নির্মাণ অনেকটাই রেডিমিক্স কংক্রিটনির্ভর। এটি পরিবেশবান্ধব, সময়সাশ্রয়ী ও টেকসই বিবেচনায় নির্মাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য। ঊর্ধ্বমুখী বাজার চাহিদায় গত কয়েক বছরে এ খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে কয়েক গুণ। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের কোম্পানি সেম রেডিমিক্স পাইওনিয়ার, যা সেম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামের ষোলশহর শিল্প এলাকায় অত্যাধুনিক মেশিনারি দিয়ে কারখানা নির্মাণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে বাণিজ্যিকভাবে রেডিমিক্স কংক্রিটের প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ২০০৪ সালে। আর এ ব্যবসায় ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে সেম রেডিমিক্স কোম্পানি। চট্টগ্রামে বেশিরভাগ বহুতল ভবন ও মেগা স্ট্রাকচার সেম রেডিমিক্স কংক্রিট দিয়ে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় ৩৮ তলা বহুতল ভবন আজিজ কোর্ট বিল্ডিং সেম কংক্রিট দিয়ে নির্মিত। এ কোম্পানির সফলতা ও প্রাপ্তির তালিকায় আছে স্বল্প সময়ে সানমার প্রোপার্টিজের মেগা প্রজেক্ট সানমার গ্রিন পার্কে ৩৬ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার সিএফটি, মেরিডিয়ান নোভোটেল হোটেলে ৩০ ঘণ্টায় ৩৮ হাজার সিএফটি, চট্টগ্রাম ওয়াসার রিজারভার প্রজেক্টে (জাইকার অর্থায়নে) ২০ ঘণ্টায় ২৬ হাজার সিএফটি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের (বেতবুনিয়া) মতো মেগা প্রজেক্টে অতি দ্রুত সময়ে কংক্রিট সরবরাহ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির রেডিমিক্স প্লান্টে উৎপাদন হচ্ছে বছরে প্রায় ১৫ লাখ সিএফটি, যা ২০১২ সালে ছিল ছয় লাখ সিএফটি। আর উৎপাদন সক্ষমতা আছে ৩০ লাখ সিএফটি। দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটছে এবং ভৌত কাঠামো নির্মাণ বৃদ্ধির কারণে রেডিমিক্স কংক্রিট সরবরাহকারী ও প্রস্তুতকারীর চাহিদাও বাড়ছে। এতে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে কোম্পানিটি।
কোম্পানিটি উৎপাদন থেকে সরবরাহ প্রতিটি পর্যায়ে সঠিকভাবে মান নিয়ন্ত্রণে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। আর এজন্যই সিয়াম ইলেকট্রনিক কংক্রিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামে বেচিং প্লান্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, কাঁচামাল সরবরাহ, ফিনিশ্ড প্রোডাক্ট, ইনভেনটরি, ডিসপ্যাচ, ল্যাবরেটরি ও চালান প্রভৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা বলেন, স্থাপনা নির্মাণে অনেকটাই রেডিমিক্স কংক্রিটনির্ভর। এটি পরিবেশবান্ধব, সময়সাশ্রয়ী ও টেকসই বিবেচনায় নির্মাতাদের কাছে আস্থার প্রতীক। ঊর্ধ্বমুখী বাজার চাহিদায় গত কয়েক বছরে এ খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে কয়েক গুণ। আর বর্তমানে এ খাতে বিনিয়োগ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। নজরদারি না থাকায় যে কেউই রেডিমিক্স কংক্রিট তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। ফলে মানের বিষয়টি গৌণ হয়ে পড়েছে। এতে মানহীন কংক্রিটে গড়ে ওঠা স্থাপনায় নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। এমনিতেই আমরা ঝুঁঁকিতে আছি।
রেডিমিক্স কংক্রিট সরবরাহকারী ও প্রস্তুতকারীর চাহিদাও বাড়ার ফলে সীতাকুণ্ড এলাকায় আরেকটি প্লান্ট স্থাপন করতে যাচ্ছে কোম্পানিটির উদ্যোক্তারা। এটিতে বিনিয়োগ হবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এতে কর্মসংস্থান হবে তিনশ’র অধিক মানুষের। আর এ প্লান্ট থেকে প্রতি মাসে সাড়ে চার লাখ সিএফটি পর্যন্ত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হবে, যা ২০১৯ সালে পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে। কারণ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার একর জমির ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পশহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ শিল্প শহরের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর, কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি শোধনাগার, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, ট্যুরিজম পার্ক, লেক, খেলাধুলার মাঠ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিদ্যালয়, ক্লিনিক ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এসব পরিকল্পনায় নির্মাণসহায়ক ভূমিকা পালন করবে সেম রেডিমিক্স।
নির্মাণ খাতে রেডিমিক্স কংক্রিটের ব্যবহার বাড়ছে। আর চট্টগ্রামের এ ব্যবসায় সম্ভাবনা অনেক। চলমান প্রকল্পসহ আগামী দিনে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে এ খাত আরও বেশি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে। এসব কারণে আমরা সীতাকুণ্ড এলাকায় দ্রুত সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এছাড়া ঢাকায়ও আমাদের নতুন একটি প্রকল্প হয়েছে। আশা করছি এ খাতে আমাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

সঞ্জীব কুমার দাশ
প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা