সৈয়দপুরের তৈরি পোশাক রফতানি হচ্ছে বিদেশে

স্থায়ী গার্মেন্ট পল্লি স্থাপনের দাবি ব্যবসায়ীদের

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর : সৈয়দপুরে দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে ঝুট কাপড়ের তৈরি পোশাকশিল্প। সেখানে গত দুই দশকে গড়ে ওঠা চার শতাধিক মাঝারি ও ক্ষুদ্র পোশাক কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার নারী-পুরুষের। আর তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে শার্ট, প্যান্ট, ট্রাউজার, মোবাইল প্যান্ট, জ্যাকেট ও টুপিসহ বিভিন্ন পোশাক। এসব তৈরি পোশাক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানেও। তবে এসব পোশাক দেশে বাজারজাত করায় তেমন সমস্যা না হলেও রফতানিতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব কারখানা সারা বছর ব্যস্ত থাকলেও ব্যবসার বড় মৌসুম শীতকাল। চলতি শীত মৌসুমেও ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা, যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। এবারের শীত মৌসুমে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্যাকেট, ট্রাউজার ও টুপি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক ও কারিগররা। তবে সরকারি প্রণোদনা ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে ওঠা এসব শিল্পকারখানা চলছে নানা সমস্যা নিয়ে।

সৈয়দপুর রফতানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্ট মালিক গ্রুপ নেতাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াই নিজস্ব পুঁজি, শ্রম ও মেধা দিয়ে তিলে তিলে তারা এই শিল্প গড়ে তুলেছেন। দেশে বাজারজাত করায় সমস্যা না হলেও রফতানিতে সমস্যার অন্ত নেই। বিশেষ করে রফতানি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো সহযোগিতা না করে উল্টো হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ তাদের। এসব সমস্যার সমাধানে এই শিল্পের জন্য ক্ষুদ্র পোশাক পল্লি গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র পোশাক মালিকদের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, ২০০০ সালের আগে সৈয়দপুরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গার্মেন্টের ঝুট কাপড় কিনে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করা শুরু করেন। পরে তৈরি হওয়া এসব পণ্য ভারতেও রফতানি শুরু হয়। তাদের তৈরি জ্যাকেট, মোবাইল ফোন, প্যান্ট, ট্রাউজারসহ অন্যান্য পোশাক ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এতে বিদেশের বাজারে বেড়ে যায় এসব পণ্যের চাহিদা। ফলে সৈয়দপুরে এ ধরনের ক্ষুদ্র ও মাঝারি গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সৈয়দপুর রফতানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্ট মালিক গ্রুপ নামে একটি ব্যবসায়ী সংগঠনও গড়ে ওঠে।

সূত্র জানায়, এ সংগঠনের আওতায় ছোট-বড় মিলিয়ে সৈয়দপুরে প্রায় চার শতাধিক কারখানা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ১৫টির মতো বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় সর্বনি¤œ দুটি থেকে সর্বোচ্চ ৪০/৫০টি সেলাই মেশিনসহ অন্যান্য উপকরণ রয়েছে। এসব কারখানায় কাটিং মাস্টার, কারিগর, হেলপার, আয়রন ম্যানসহ প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন, যার মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার। এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা।

রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমআর ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী সদস্য মো. মতিয়ার রহমান দুলু জানান, এ শিল্পের প্রসার ঘটাতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

শহরের মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর এলাকার আরএ গার্মেন্টের উদ্যোক্তা আঞ্জুয়ারা বেগম ও পরিচালক গোলাম রব্বানী জানান, তাদের এ শিল্পে ৩০টি মেশিনের মাধ্যমে শীতের পোশাক জ্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে। এসব তৈরিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে ৪০-৪৫ শ্রমিক-কর্মচারী।

গার্মেন্ট শিল্পের সহায়তায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই) থেকে সৈয়দপুরের ৯২ মালিককে স্বল্প সুদে আড়াই কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে এসব ঋণের টাকা পরিশোধ হলে আরও পাঁচ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন আকতার জানান, শুধু ঝুট কাপড় নয়, এখন নতুন নতুন কাপড় কিনে সৈয়দপুরে গার্মেন্টগুলোতে শীত ও গরমের পোশাক তৈরি হচ্ছে।