সারা বাংলা

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই 

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর (নীলফামারী): আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে লাচ্ছা সেমাই তৈরির ধুম পড়েছে। শহরের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে লাচ্ছা সেমাই তৈরির শতাধিক কারখানা। এসব কারখানায় নোংরা ও  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বেশকিছু কারখানা মালিককে জরিমানা করেছে। কিন্তু তারপর থেমে নেই অনুমোদনবিহীন অবৈধভাবে লাচ্ছা সেমাই তৈরি ও বাজারজাতকরণের কাজ।
রমজান মাস এলেই সৈয়দপুরে লাচ্ছা সেমাই তৈরির ধুম পড়ে। সেমাই তৈরি কারিগররা দিনরাত সমানতালে কারখানাগুলোয় কাজ করে চলেছেন। প্রতিটি লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক সেমাই তৈরির উপকরণ সামগ্রী ময়দা, ডালডা, তেল, খড়িসহ অন্যান্য সব রকম উপকরণ মজুদ করে রেখেছেন ইতোমধ্যে। যাতে উপকরণের সংকটে সেমাই তৈরির কাজে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত না ঘটে।
আগে কনফেকশনারি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরাই লাচ্ছা সেমাই তৈরি ও বিক্রি করতেন। কিন্তু গত ৫-৬ বছর ধরে শহরের কনফেকশনারি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা ছাড়াও অনেকেই রমজান মাসে এ লাভজনক ব্যবসায় নেমে পড়েন। তারা মূলত মৌসুমী ব্যবসায়ী। আর এসব ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে অধিক মুনাফা। তারা মানুষের স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় না এনে মুনাফার বিষয়টি মাথায় রেখে অতি নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন লাচ্ছা সেমাই তৈরিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরে শতাধিক স্থানে লাচ্ছা সেমাই তৈরি কারখানা গড়ে উঠেছে। অথচ এখানে মাত্র ১৩টি লাচ্ছা সেমাই কারখানার বিএসটিআই’র অনুমোদন রয়েছে। শহরের কাজীহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ি, হাতিখানা, নিয়ামতপুর, মুন্সিপাড়া, গোলাহাটসহ শহরের আনাচে-কানাচে মৌসুমি লাচ্ছা সেমাইয়ের কারখানা চালু করা হয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন নামে লাচ্ছা বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব লাচ্ছা প্রতিদিন রিকশাভ্যান ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় শহর ও গ্রামের হাটবাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ এসবের বিএসটিআই’র কোনো অনুমোদন নেই। অধিকাংশ কারখানার পরিবেশ নোংরা, কারিগররাও অপরিচ্ছন্ন। লাচ্ছা সেমাই তৈরিতে দেদার ব্যবহার করা হচ্ছে অনিরাপদ পানি ও ক্ষতিকর নিন্মমানের তেলসহ সব উপকরণ। অবৈধভাবে গজানো এসব কারখানার কারণে সমস্যায় পড়েছে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সেমাই ও লাচ্ছা তৈরির কারখানাগুলো।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আখতার সিদ্দিকী পাপ্পু জানান, তারা বিএসটিআই ও পবিরেশ অধিদফতরের অনুমোদন নিয়ে সরকারকে সব রকম ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছেন। ফলে তাদের পণ্যের উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। আর তাই তাদের উৎপাদিত সেমাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু মৌসুমী ব্যবসায়ীদের নেই কোনো অনুমোদন। দিতে হচ্ছে না সরকারি ভ্যাট, ট্যাক্স। তারা সেমাই তৈরিতে ব্যবহার করছে নি¤œমানের উপকরণ। ফলে তারা যে মূল্যেই তাদের সেমাই বেচাবিক্রি করুক না কেন তাদের লাভ বেশি থাকছে। কিন্তু বৈধ ব্যবসায়ীদের সারা বছরই ব্যবসা করতে হয়। তাদের একটি স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে। সেখানে বসে সারা বছরই সেমাই ও বেকারি পণ্য বিক্রি করেন তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান খারাপ হলে ক্রেতারা সরাসরি প্রতিষ্ঠানে এসে অভিযোগ করতে পারেন। কিন্তু বাজারে যে সব খেলা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে তাদের ধরার কোনো জায়গা নেই। তাই তারা নিন্মমানের উপাদান দিয়ে তৈরি লাচ্ছা সেমাই কম দামে বিক্রি করেও অধিক মুনাফা লুটছে।
সৈয়দপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক অহিদুল হক জানান, শুধু রজমান মাস নয়, সারা বছরই হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারিসহ বাজার তদারকি করেন তারা। আর রমজানের শুরু থেকে লাচ্ছা ও ইফতারি তৈরি এবং বাজারজাতের প্রতি অধিক নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের নেতৃত্বে নোংরা, অপরিচ্ছন্ন এবং নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার ও অনুমোদন না থাকায় বেশ কয়েকটি সেমাই কারখানার মালিকের জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সর্বশেষ..