সারা বাংলা

সৈয়দপুরে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে দেড়শ একরে বোরো ধান নষ্ট

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একই মালিকের পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ইটভাটার নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় দেড়শ’ একর জমির বোরো ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার কিসামত কামারপুকুর এলাকায় অবস্থিত এমজেডএইচ ব্রিকস থেকে নির্গত গ্যাসে কৃষকদের ওই ধানক্ষেত পুড়ে নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার কিসামত কামারপুকুর এলাকায় এমজেডএইচ ব্রিকস নামে দুটি ইটভাটা অবস্থিত। বেশ কিছুদিন আগে শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশিদ সেখানে তিন ফসলি আবদি কৃষি জমিতে প্রথমে একটি ইটভাটা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে একই এলাকায় পাশাপাশি আরও একটি ইটভাটা স্থাপন করেন তিনি। আর ওই ইটভাটার আশেপাশের জমির মালিকরা ও বর্গাচাষিরা প্রতি বছরের মতো এবার জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেন। ইতোমধ্যে কোন কোন ধানক্ষেতে শীর্ষ বের হয়েছে, আবার কোনো কোনো ধানক্ষেতের শীষ বের হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে আগাম জাতে লাগানো কোনো ধানক্ষেতে পাক ধরেছে।
কিন্তু এমজেডএইচ ব্রিকসের নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে ধান ক্ষেতগুলোর শীষ কালো হয়ে যাচ্ছে। আর যে সব ধান ক্ষেতের শীষ এখনও বের হয়নি, বা বের হওয়ার উপক্রম, সে সব ধানগাছের পাতা শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, তিনি এবার প্রায় ১৫ দোন (৩০ শতাংশে এক দোন) জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে ধাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ধান চাষাবাদের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ছাড়াও অনেকজনের বেশকিছু টাকা ঋণ করেছেন। ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে তার ধানক্ষেত পুড়ে গেছে।
কৃষক মোহাম্মদ জুয়েল জানান, তিনি অন্যের ১০ দোন জমি চুক্তিতে বর্গা নিয়ে ধান লাগিয়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ দিয়ে ওই জমি বর্গা নিয়েছিলেন তিনি। এখন তিনি কীভাবে ঋণ শোধ করবেন এ চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
এমজেডএইচ ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ইউএও) হোমায়রা মণ্ডল জানান, তিনি সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে কৃষকদের ধানক্ষেতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে তার দফতর থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম গোলাম কিবরিয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে একটি কমিটি করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ..