সোনালী আঁশের দর বেড়েছে ৩৯ শতাংশ

১৩ কার্যদিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক: লাফিয়ে বাড়ছে সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর। গত ১৩ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৩৯ শতাংশ বা ৭৮ টাকা ৩০ পয়সা। দর বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তবুও টানা দর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।
তথ্যমতে, গতকাল সোনালী আঁশের শেয়ার সর্বশেষ ২৮০ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এদিন কোম্পানিটির দর ২৭০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা করেছে, যা আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে আট দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ২২ টাকা ৫০ পয়সা। কোম্পানিটির দর বেড়ে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করেছে। এদিন কোম্পানির দর বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২৮০ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বনি¤œ সীমা ছিল ২৩৫ টাকা ১০ পয়সা। এর আগে গত ২৭ মার্চ কোম্পানির শেয়ার ২০১ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে টানা বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। গত এক বছরে কোম্পানিটির দর সর্বনি¤œ ১৮৪ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২৮০ টাকা ১০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।
এদিকে টানা দর বাড়ায় বিষয়টি অস্বাভাবিক বলে মনে করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আর এ কারণে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দর বাড়ার কারণ জানতে কোম্পানিটিকে নোটিস প্রদান করে। জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দর বাড়ার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
এ সম্পর্কে সোনালি আঁশের কোম্পানি সচিব মকসুদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কী কারণে শেয়ারদর বাড়ছে তা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়টি আমরা স্টক এক্সচেঞ্জকেও জানিয়েছি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ মন্দার পর বাজার চলতি মাসের প্রথম দিকে কিছুটা ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। আর এ সময় কিছু স্বল্পমূলধনি কোম্পানির দর বাড়ছে। এসব কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা কম থাকায় কোনো চক্র তা নিয়ে নড়াচড়া করতে পারে। তবে সোনালি আঁশের দর বাড়ার পেছনে কোনো চক্র জাড়িত কি না তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বাজার যখন ইতিবাচক ধারায় ফিরতে চেষ্টা করছে তখন কিছু কোম্পানির দর লাফিয়ে বাড়ছে। অথচ তাদের দর বাড়ার পেছনে কোনো কারণ নেই। তবুও কী কারণে দর বাড়ছে তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার। যদি এভাবে দর বাড়তে থাকে তখন শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়। আর তাতে বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতির শিকার হয়।
রয়েল সিকিউরিটিজ হাউজে ট্রেড করেন আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাজারের উত্থান ও পতন দুই সময়েই কিছু কোম্পানির দর অতিমূল্যায়িত হয়। আর এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব শেয়ারদর বাড়ার কোনো কারণ না থাকলেও কেন লাফিয়ে বাড়ছে তা খতিয়ে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি দাবি জানাই। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
লভ্যাংশের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোম্পানিটি গত পাঁচ বছরে প্রত্যেক সমাপ্ত বছরই কোম্পানির ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের হিসাববছরেও লভ্যাংশের একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। আলোচিত বছর কোম্পানির দেওয়া লভ্যাংশের প্রকৃত মুনাফার হার দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা খুবই সামান্য।
পুঁজিবাজারে ১৯৮৫ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা। কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা ২৭ লাখ ১২ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৫৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঁচ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার আছে।