স্টক বিভক্তি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম

মিজানুর রহমান শেলী: শেয়ারহোল্ডারদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আমাদের মতো বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নৈপুণ্যতা। তাই আমরা সব সময়ই ভালো শেয়ারহোল্ডার খুঁজে ফিরি। আমাদের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি শেয়ারহোল্ডার যোগ্য। এমনকি তারা দীর্ঘমেয়াদি এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ করা সম্পদকে দ্বিগুণের বেশি করে নিতে আশাবাদী। আমি নিজেও বিশ্বাস করি তাদের এ প্রত্যাশা পূর্ণ হবে। এসব বিনিয়োগকারী আজ থেকে পাঁচ বছর আগেই বার্কশায়ার কিংবা ব্লু চিপের সদস্য হয়ে এসেছে। তারা দীর্ঘ মেয়াদে তাদের ধৈর্য আর সাহস নিয়ে বাজারে টিকে থাকতে চায়। তাদের সাহস হলো তারা বাজারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সদস্য। বিভিন্ন কোম্পানিতে আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। এখানে কয়েক হাজার শেয়ারহোল্ডার তাদের বিনিয়োগ করে দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান করছেন। আমাদের এই মোট বিনিয়োগের বাজারমূল্য এক বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। নিঃসন্দেহে এ পরিমাণটি কম নয়। এটা বাজারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। এ ব্যাপারে কারও কোনো সন্দেহ থাকে না, নেই। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা চলে আমরাই বাজারের কর্তাস্থানীয়। বাজারে আমাদের এই সম্মান ও মর্যাদাটি আমাদের শেয়ারহোল্ডাররা বেশ দারুণভাবে অনুভব করেন। আবার আমরাও আমাদের বিনিয়োগকারীদের এই ভাবনা বা অনুভূতি নিয়ে ভাবি। এখানে উল্লেখ্য, এই ভাবনা আমাদের শেয়ারহোল্ডারদের যেমন আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে, তেমনি আমরা আমাদের অর্জন নিয়ে গর্ববোধ করি। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জন এবং আমাদের সফলতা এটা মানতে হবে। এই সম্মান ও মর্যাদার কারণে আমাদের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগকৃত কোম্পানির মালিক হিসেবে সিজেকে ভাবতে কখনও হীনম্মন্যতায় আচ্ছন্ন হয় না। তারা নিজেদের মালিকানাস্বত্ব অনুভব করে। আর আমাদের মতো বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটাই আমাদের সফলতা। একটি বিনিয়োগকারী দলের মর্যাদা এ পর্যন্ত উচ্চ করে তোলা নিশ্চয়ই অল্পস্বল্প কোনো কথা নয়। এটা অনেক বড় অর্জন। আর বিনিয়োগকারী দলের জন্য একটি বড় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা পরিচয়।
এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের কি সত্যিই উচিত হবে স্টক ভেঙে ফেলা। এমনকি বাজারদরের ভিত্তিতে আমরা কি সত্যিই আমাদের স্টক ভাংব। নাকি আমরা আমাদের স্টকের বিষয়-আশয় নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের বাজারমূল্যকে গুরুত্ব দেব। আমাদের উচিত হবে কেবল প্রবেশ করছেÑএমন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা। আর নিশ্চয়ই এরা হবে বর্তমান বাজারে টিকে থাকা ক্রেতাদের চেয়ে তার একটি নি¤œ পর্যায়ের। ১৩০০ ডলারে এমন অনেক শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন, যারা বার্কশায়ারে শেয়ার বহন করতে পারেন না। যদি কোনো সম্ভাবনাময় শেয়ারহোল্ডার একাই ১০০টি শেয়ার কিনে নিতে পারেন, তবে আমরা কেনইবা আমাদের শেয়ার ১০০ ভাগে বিভক্ত করব। এটার কোনো প্রয়োজন আছে কিনা আমাদের জানা নেই। তিনি তো একটা শেয়ার কিনলেই তার কাজ সম্পন্ন হলো। যারা এরকম চিন্তা করে থাকেন, তারাই স্টক কেনেন; কেননা বিভক্তি ও নিশ্চিতভাবে কোনো শেয়ারের গুণগত মান নিচে নামার বিষয়টি তারা আঁচ করতে পারেন। তারা কার্যত আমাদের শেয়ারহোল্ডার দলের মান নিচে নেমে যাক সে প্রত্যাশা করে থাকেন। আর আমরা কাদের পরামর্শ গ্রহণ করব? যারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে ব্যবসা কার্যক্রমের সঙ্গে রয়েছেন, সেই পুরোনো বিচক্ষণ শেয়ারহোল্ডারদের হেয় করে আমরা কি নতুন আগন্তুক কিছু কাঁচা বিনিয়োগকারীর পরামর্শ গ্রহণ করব। আমরা তো এই নতুন বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করতে পুরাতনদের তোষণ করতে পারি না। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই নতুন বিনিয়োগকারীরাই ৯-১০টি ডলার নিতে বেশি পছন্দ করেন একটি ১০০ ডলারের চেয়ে। আমার জানা নেই, একটি ১০০ ডলারের চেয়ে ৯টি ১০ ডলার কীভাবে বেশি সম্পদশালী হতে পারে? যেসব মানুষ নন-ভ্যালু বিষয়-আশয় খরিদ করে চলে, তারা সম্ভবত নন-ভ্যালুর বিনিময়েই বিক্রি করে থাকে। এই সার্বিক চিত্রের মধ্যে তাদের উপস্থিতি কেবলই অস্থিরতাকে ঘণীভূত করবে। কার্যত সেখানে অস্থির মূল্যমান সব সময় একটি দোলাচলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাখবে। আর এটা ব্যবসার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
আমরা সাধারণত এমনসব নীতিকে এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে থাকি, যেসব নীতি দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করে থাকে। কার্যত এটা আমাদের স্টকের স্বল্পমেয়াদি দরকে আকর্ষণীয় করে। কিন্তু এই দর কখনোই স্থায়ী হয় না। আমরা আমাদের নীতিগুলোকে এমনভাবে সাজাই, যাতে করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সহায়ক হয়। আর এটার মূল আকর্ষণের কেন্দ্র হয় ব্যবসা-মূল্য। যেভাবে আপনি বাজার থেকে বার্কশায়ারের শেয়ারগুলো খরিদ করলেন সেভাবেই আপনি সেই শেয়ার বিক্রি করার সময় একই মান ও বৈশিষ্ট্যের বাজার আশা করবেন। আর এই বাজারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে অনেক অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ক্রেতার সমাগম হয়ে থাকে। আর বার্কশায়ার সব সময় এই পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করে থাকে। এই পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
স্টক মার্কেটের সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো তারা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ব্রোকাররা এই স্টক মার্কেটের পরিবেশকে ‘বাজারযোগ্যতা’ বা মার্কেটাবিলিটি এবং ‘তারল্য’ বা লিকুইডিটি নামে আখ্যায়িত করেছে। এখানে সেই কোম্পানির গুণকীর্তনই করা হয়ে থাকে, যে কোম্পানির উচ্চ শেয়ার টার্নওভার হয়ে থাকে (মনে রাখতে হবে, বস্তুত যে আপনার পকেট পূর্ণ করতে না পারে, সে নিশ্চিতভাবেই আপনার কান পূর্ণ করতে সক্ষম হবে। আর এ কাজটি তারা লুকিয়ে-চুকিয়ে করে না, বরং খুবই আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গেই করে থাকে)। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সঠিকভাবে বুঝতে হবে যেটা ক্রোপিয়ারের (খেলার টেবিলে যিনি নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকেন, কুপন বিক্রি করেন) জন্য মঙ্গলজনক, সেটা একজন ক্রেতার জন্য মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। একটি উচ্চ ক্রিয়াশীল স্টক মার্কেট নিয়ে আপনাদের অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত। কেননা, এসব স্টক মার্কেট বিভিন্ন ব্যবসায় এন্টারপ্রাইজের পকেট চুরি করে থাকে। এর উদাহরণ হিসেবে একটি সাধারণ কোম্পানির আয়ের বিষয়টিকে বিবেচনায় আনা যায়। আপনি একটু সাধারণভাবে চিন্তা করলেই এটা বুঝতে পারবেন। ধরুন, এ ধরনের একটি কোম্পানির আয় তার ইকুইটির ১২ শতাংশ। এই কোম্পানিটি প্রতি বছর তাদের ১০০ ভাগ শেয়ার থেকে উচ্চমানের টার্নওভার হার অর্জন করে থাকে। আর যদি এ স্টকের ক্রয় ও বিক্রয়ে বুক ভ্যালুর সমানে বাণিজ্য করে থাকে, তবে আমাদের হাইপোথেটিক্যাল কোম্পানিগুলোর মালিক থোক বরাদ্দ হিসেবে কোম্পানির নিট সম্পদের দুই শতাংশ বাৎসরিক হিসেবে পরিশোধ করবে। এই পরিশোধের উদ্দেশ্য বা সুবিধা হলো মালিকানা স্থানান্তর করা। বস্তুত এ কার্যক্রম ব্যবসার আয়ের ব্যাপারে কোনো কিছুই করে না। এর অর্থ হলো, তাদের ১/৬ ভাগ লোক মালিকানা হারাতে থাকে ‘ফ্রিকশনাল’ খরচ হস্তান্তরের মাধ্যমে। উল্লেখ্য, এ হিসাবটি কখনোই অপশন বাণিজ্যকে বিবেচনায় আনে না। আর এটা কোনোভাবেই এই পরিবেশ-পরিস্থিতির জন্য শুভকর হতে পারে না। কার্যত তা কেবলই ফ্রিকশনাল খরচকে আরও বেশি বেশি হারে বাড়িয়ে চলে।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ