স্টিলমার্ক পাইপস লিমিটেড

আধুনিক অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে ইস্পাত। মানব জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইস্পাতকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বেলায়ও একই ধারণা প্রযোজ্য। দেশের অন্যতম ক্রমবর্ধমান শিল্প ইস্পাত খাত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠিতও। অনেকটা সময় নিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসেছে খাতটি। এ অবস্থানে আসার পেছনে খাতসংশ্লিষ্ট মানুষ ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বেশ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের ইস্পাতশিল্পে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে স্টিলমার্ক পাইপস লিমিটেড এ কথা বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। দেশের ইস্পাতশিল্পের অগ্রগতিতে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ অবদান রয়েছে।

স্টিলমার্ক পাইপসের পণ্যগুলো সাধারণত পানি, গ্যাস লাইন, ফার্নিচার, বয়লার, মেডিক্যাল সামগ্রী, টাওয়ার, জাহাজশিল্প ও নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সেরা পণ্য উৎপাদন করে আসছে। বছরে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন পাইপ উৎপাদন করে। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ১/২’’ থেকে ৪’’ এমএস, জিআই ও ফার্নিচার পাইপ ও ৩/৪’’ ঢ ৩/৪’’ থেকে ২’’ ঢ ২’’ বক্স পাইপ। পাইপের পুরুত্ব শূন্য দশমিক চার মিলি থেকে পাঁচ মিলি ও দৈর্ঘ্য ২০ বা তারও বেশি। তাছাড়া গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী যে কোনো দৈর্ঘ্যরে পাইপ সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাইপ উৎপাদনে সক্ষম স্টিলমার্কÑএর মধ্যে রয়েছে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন এমএস ও ফার্নিচার পাইপ ও ১২ হাজার আন্তর্জাতিক মানের জিআই প্লান্ট পাইপ। শিগগির এসএস পাইপ উৎপাদন ও বাজারজাতের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোৎকৃষ্ট এমএস, জিআই ও ফার্নিচার পাইপ তৈরি করে স্টিলমার্ক পাইপস লিমিটেড। সঠিক দামে, সঠিক মানের পণ্য বিপণন করে আসছে তারা। উৎপাদন থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রয়েছে তাদের কারখানাটি। অত্যাধুনিক এ কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় এখানে। কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে ফিনিশড প্রোডাক্ট পর্যন্ত কঠোর পর্যবেক্ষণ করা হয়। স্টিলমার্কের সব পাইপ বিএসটিআই ও বুয়েট দ্বারা পরীক্ষিত। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যেমন এএসটিএম, বিএস, জিআইএস প্রভৃতি নিশ্চিতের বিষয়টি তো আছেই। জাপান ও তাইওয়ান থেকে কাঁচামাল আমদানি করে থাকে স্টিলমার্ক পাইপস। এসব উপাদান ব্রিটিশ মান বিএস-১৩৮৭ ও বাংলাদেশ মান বিডিএস-১০৩১ নিশ্চিত করে। আর গ্যালভানাইজিংয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে জিংক আমদানি করা হয়, যা বিএস-৭২৯ নিশ্চিত করে।

শুরুটা ভীষণ চ্যালেঞ্জের হলেও কর্মদক্ষতা, অধ্যবসায় আর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে স্টিলমার্ক। গুণগত মান ও স্বকীয়তার ওপর ভর করে টিকে আছে তারা। দেশ ও অর্থনীতির কল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটিতে চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ইঞ্জিনিয়ার তানভির আহমেদ সিদ্দিক। দেশের ইস্পাত খাতের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা তিনি। আবাসন খাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। স্টিলমার্কের পাশাপাশি উত্তরণ স্ট্রাকচারাল ডিজাইনারস লিমিটেড নামে একটি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপিং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানও তিনি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি নিয়েছেন। ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজওয়ানুল মামুন। স্টিলমার্ক বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক তিনি। পরিচালনা পর্ষদে আরও রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ হোসেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

এক ঝাঁক উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দক্ষ জনশক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখছে তারা। বাজার মনিটরিং ও গবেষণার কারণে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের কার্যকরী দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। মানসম্মত পরিচালনা পদ্ধতি, প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য করে তুলেছে।

ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ ভবনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে স্টিলমার্কের পণ্য। বর্তমান গ্রাহক পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে সজাগ। সব মিলিয়ে স্টিলমার্কের পণ্য পরিণত হয়েছে গ্রাহকের আস্থায়।

 

রতন কুমার দাস