স্ট্রি ট ফু ড: বাকসো

কোন দেশের স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবার সেরা? উঁহুঁ, সে বিতর্কে না গিয়ে আসুন জেনে নিই কোন দেশে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড না খেয়ে ফিরে আসার মানে জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা মিস করা! আজ বাকসোর কথা জানাচ্ছেন হাসানুজ্জামান পিয়াস
বিফ সুরিমি (মাছ কিংবা মাংসের পেস্ট) থেকে তৈরি মিটবল বাকসো বা বাসো নামে পরিচিত। ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় একটি খাবার এই বাকসো। এর গঠনবিন্যাস চাইনিজ বিফ বল, ফিশ বল, কিংবা পোর্ক বলের মতো।
‘বাকসো’ শব্দটি দিয়ে একটি একক মিটবল কিংবা এক বাটি মিটবল সুপকে বোঝায়। ইয়োলো নুডুলস-সহযোগে বাকসো পরিবেশন করা হলে তাকে ‘মি বাকসো’ এবং নুডুলস ছাড়া বাকসো মিটবল সুপকে ‘বাকসো কুয়া’ বলে।
ইন্দোনেশিয়ার সব অঞ্চলের রাস্তার পাশের ফুডকোর্ট কিংবা রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় বাকসো। ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড তালিকায় সোটো, সাটাই ও সিয়োমাইয়ের পাশাপাশি বাকসো অন্যতম। বর্তমানে সুপার মার্কেটগুলোয় নানা ধরনের বাকসো রান্নার জন্য প্রস্তুত করে হিমায়িত খাবার হিসেবে বিক্রি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রসিডেন্ট বারাক ওবামা তার এক ভাষণে ছোটবেলা থেকেই প্রিয় খাবার হিসেবে এর নাম উল্লেখ করেন। এরপর এ খাবারটির প্রতি আকর্ষণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত গরুর মাংসের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ট্যাপিওকা ময়দা ও লবণ দেওয়া হয়। কখনও মাছ, চিংড়ি, মুরগি বা শূকরের মাংস দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ান বাকসোর মধ্যে শূকরের মাংস ব্যবহার করা হয় না।
ইয়োলো নুডুলস, বিহুন (এক ধরনের সেমাই), লবণাক্ত সবজি, টফু, ডিম (বাকসো দিয়ে আবৃত), চীনা সবুজ বাঁধাকপি, শিমের অঙ্কুর প্রভৃতি সহযোগে মাংসের ঝোলের মধ্যে বাকসো পরিবেশন করা হয়।
চাইনিজ অনেক খাবার ইন্দোনেশিয়ান রান্নাকে প্রভাবিত করেছে, যেমন বাকমি, মি আয়াম, প্যাংসিট, লুমপিয়া প্রভৃতি। একইভাবে বাকসোও চীনা খাবার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে।
আকার-আকৃতি, উপাদান ও বয়নপ্রণালীর ওপর ভর করে নানা বৈচিত্র্যের চাইনিজ ইন্দোনেশিয়ান খাবারটি পাওয়া যায়। যেমন উরাট (টেনডনস ও অমসৃণ মাংস দিয়ে তৈরি), আয়াম (মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি), বলা টেনিস (টেনিস বল আকৃতির, সিদ্ধ ডিম আবৃত, গরুর মাংস, চর্বি কিংবা উরাটযুক্ত), টেলুর (টেনিস বল আকৃতির, সেদ্ধ ডিম আবৃত), গেপেং (ফ্ল্যাট বিফ বাকসো), গোরেং (ফ্রাইড), আইকান (ফিশ বল), উডাং (চিড়িং দিয়ে তৈরি), মালাং (নুডুল, টফু, সিয়োমাই), কেজু (মোজারেলা চিজ দেওয়া হয়), কোটাক (ঘনক্ষেত্র আকৃতির), বাকার (সাটাইয়ের মতো করে তৈরি) ও চুয়াংকি (পশ্চিম জাভার বানডুং শহরে জনপ্রিয়)। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও নানা নামে দেখা মেলে এর।