আসবাব শিল্প

স্বপ্নের ঠিকানার জন্য

 

চাকরিজীবী আবদুল হক টিপু। জীবন ও জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম শহরে এসেছেন সেই ছেলেবেলায়। কিন্তু এখনও এ শহরে একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়তে পারেননি। প্রত্যাশিত একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনার আশায় এবার ঘুরছেন আবাসন মেলার বিভিন্ন কোম্পানির স্টলে। জেনে নিচ্ছেন ফ্ল্যাট-সংশ্লিষ্ট নানা তথ্য।

বলছিলাম চট্টগ্রামে আবাসনশিল্প মালিকদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) চার দিনব্যাপী আবাসন মেলার কথা। স্বপ্লিল আবাসন সবুজ দেশ, লাল-সবুজের বাংলাদেশÑএ সেøাগানে রিহ্যাবের উদ্যোগে চট্টগ্রামে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে গতকাল থেকে চার দিনব্যাপী ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৮’ শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বেলা ৩টা থেকে দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করেন। ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর মেলা অঙ্গন। চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু’র এ মেলায় ৮৩টি স্টলে আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভবন নির্মাণসামগ্রী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সমান তালে ব্যস্ত সময় পার করছে নিজেদের পণ্য ও অফার সম্পর্কিত তথ্য বয়ানে। ক্রেতা আকর্ষণে সব আয়োজনে সাজানো স্টলগুলো। এক স্টল থেকে প্রয়োজনীয় লিফলেট, শুভেচ্ছা উপহার ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে দর্শনার্থীরা একে একে ছুটছেন পাশের স্টলে নতুন কিছু জানার জন্য। এ ছুটে চলা স্বপ্নের একটি ফ্ল্যাটের জন্য, আপন ঠিকানার জন্য।

ব্যাংকার শেহরিন সানজিদা আলম বলেন, চট্টগ্রামে আমার একটি ফ্ল্যাট হবেÑএটা আমরা স্বপ্ন। এ স্বপ্ন পূরণে অনেক সময় ধরে খুঁজছি বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট। কিন্তু এতে অনেক সমস্যা। আর এ মেলায় এক সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে বলে অল্প সময়ে অনেক তথ্য যাচাই-বাচাই করে নিতে পারছি। এতে প্রত্যাশিত ফ্ল্যাটটি মিলে গেলেই হলো।

ঋণ সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিভিএইচের রিলেশনশিপ অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আবাসন নাগরিক অধিকার। এ অধিকার পূরণে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা দিচ্ছি। প্রয়োজন অনুসারে ৭০ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ২০ বছরমেয়াদি গৃহ ও ফ্ল্যাট কেনায় ঋণ দিচ্ছি।

মেলা উপলক্ষে র‌্যাংকস এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেডের এজিএম (ব্র্যান্ড) রিসাত ইভান বলেন, নাগরিক সুবিধা সংবলিত পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ সুপরিকল্পিত গৃহায়ন ও নগরায়ণের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলাভূমি রক্ষা করে পরিকল্পিত নগরায়ণ সৃষ্টিতে সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আবাসন ব্যবসায়ীরা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১১তম হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, অভিঘাত, সহনশীল, টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলা’। এসডিজির লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের সব উন্নয়ন পরিকল্পনায় গৃহায়ন ও আবাসন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা, ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। নগরীতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বহুতলবিশিষ্ট ফ্ল্যাট ও গ্রামাঞ্চলে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য সুপরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজšে§র জন্য একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাই হচ্ছে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোক্তারা সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন।

রিহ্যাব সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, গতবারের মেলার চেয়েও এবার বেশি প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রি হবে। কেননা এখন ক্রেতার মাঝে আস্থা ফিরে এসেছে। বাজারও ক্রেতার অনুকূলে। তিনি আরও বলেন, মেলায় অনুমোদিত প্রকল্পের প্লট, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি বা প্রদর্শনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ মেলায় অংশ নিয়েছে এয়ারবেল ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেড, এএনজেড প্রপার্টিজ লিমিটেড, বার্জার পেইন্টস লিমিটেড, বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেড, কনকর্ড রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, সিএ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (সিপিডিএল), এলিট পেইন্ট, এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড, ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট প্রা. লিমিটেড, জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেড, মাওলানা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, র‌্যাংকস এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেড, সানমার প্রপার্টিজ লিমিটেড, আবুল খায়ের সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইউনিক অ্যাসেটস লিমিটেড, ইউএস বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেড, ফিনলে প্রপার্টিজ লিমিটেড প্রভৃতি। মেলায় কো-স্পন্সর হিসেবে অংশ নিয়েছে ২১ প্রতিষ্ঠান। সাধারণ স্টল ২১টি, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ১০টি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাতটি।

সর্বশেষ..