স্বেচ্ছা রক্তদানেই পূরণ হোক রক্তচাহিদা

 

গত ৬ এপ্রিল দুই শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা জানায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। তাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির যে কোনো জনহিতৈষীমূলক কাজের ক্ষেত্রে কর ছাড়সহ সম্ভাব্য সব সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সংস্থাটির এমন পদক্ষেপ রক্তদানসহ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে বেগবান করবে বলেই আশা। অন্যান্য জনসেবামূলক সংস্থাও এতে উৎসাহিত হবে।

রক্তদান নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ। এতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ১৯৯৬ সাল থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। বর্তমানে মোট স্বেচ্ছা রক্তদানের এক-পঞ্চমাংশই আসে সংস্থাটির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে রক্তদাতাদের প্রায় অর্ধেকই নিয়মিত। তবে দেশে এখনও রক্তদান নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে স্বেচ্ছা রক্তদানের হারেও আমরা পিছিয়ে রয়েছি বলে জানা যায়। আয়তন ও জনসংখ্যায় ছোট দেশ ভুটানও আমাদের থেকে এগিয়ে আছে। এ অবস্থায় দেশের প্রায় সাত লাখ ব্যাগ রক্তচাহিদার বিপরীতে এর মাত্র ২৬ শতাংশ আসছে স্বেচ্ছা রক্তদাতার কাছ থেকে। তাছাড়া আগের তুলনায় কমে এলেও এখনও পেশাদার রক্তদাতার কাছ থেকে রক্ত ও রক্ত উপাদান সংগ্রহ করা হচ্ছেÑযা হতে পারে বিপজ্জনক। এ অবস্থায় জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে স্বেচ্ছা রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থাগুলো জনকল্যাণে বড় অবদান রাখছে বলেই আমরা মনে করি।

স্বেচ্ছা রক্তদান একটি নিঃস্বার্থ দান। এর প্রতিদান সম্ভব নয়। তবে রক্তদানে উল্লেখযোগ্য কোনো অসুবিধার কথা জানা যায় না। নিয়মিত রক্তদানে কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা বরং রয়েছে। এতে ক্যানসার, হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে বলে জানা যায়। রক্তদানের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে অবস্থিত বোন ম্যারো নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে উদ্দীপ্ত হয়। এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে আসে। লোহিত কণিকার ঘাটতি পূরণ হতেও সময় লাগে মাত্র চার থেকে আট সপ্তাহ। এ পুরো প্রক্রিয়া শরীরের সার্বিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। সুতরাং প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো মুছে ফেলতে রক্তদানের এসব ইতিবাচক দিক মানুষের মধ্যে আরও ছড়িয়ে দিতে হবে। এ কাজটিই করছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সন্ধানী ও বাঁধনের মতো সংস্থাগুলো। আরও বেশিসংখ্যক মানুষকে রক্তদানে উৎসাহী করতে এ সংস্থাগুলো নিয়মিত রক্তদাতাদের বিভিন্ন সেবামূলক সুবিধাও জোগাচ্ছে। এসব প্রয়াস উত্তরোত্তর আরও সফল হবে এমনটাই প্রত্যাশা। তবে শুধু কয়েকটি সংস্থা নয়, জীবন রক্ষাকারী এ কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে সম্ভাব্য সবাইকে। রক্তদানে সক্ষম ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে এ মহৎ কাজে। তাহলে কাউকেই আর পেশাদার রক্তদাতার ওপর নির্ভর করতে হবে না। আমাদের ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩ শতাংশও যদি বছরে শুধু একবার রক্তদান করে, তাহলে মোট রক্তচাহিদার পুরোটাই স্বেচ্ছা রক্তদাতার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে জানা যাচ্ছে। এমন লক্ষ্য অর্জনের প্রয়াসগুলোকে তাই আরও জোরালো করে তুলতে হবে।