স্পোর্টস

স্মরণীয় হয়ে থাকবে লিটনের বিশ্বকাপ অভিষেক

ক্রীড়া ডেস্ক: আয়ারল্যান্ড সিরিজ ও বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। কিন্তু ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকারের জন্য জায়গা পাচ্ছিলেন না লিটন কুমার দাস। তবে গত পরশু মোহাম্মদ মিথুনের জায়গায় একাদশে সুযোগ পান এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে নামেন ৫ নম্বর পজিশনে। সে সময় আবার দ্রুত তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে হারিয়ে বেশ চাপে ছিল টিম বাংলাদেশ। এমন এক পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখতে যেমন খেলার দরকার ছিল, ঠিক সেটাই করেন তিনি। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে গড়ে তোলেন ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। তার মধ্যে তিনি করেন ৬৯ বলে ৮ চার ও ৪ ছয়ে ৯৪ রান।
লিটনের সেঞ্চুরি না হওয়ায় অনেকেই তো গত পরশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করেছেন রসিকতা। কেউ কেউ বলেছেন, আর কিছু রান করলেই বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কি হতো? তাহলে তো বিশ্বকাপ অভিষেকেই সেঞ্চুরি পেতেন লিটন।
টন্টনের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় মাঝপথে ব্যাটিংয়ে শুরুতে সাকিবকে সঙ্গ দেন লিটন। পরে আশ্চর্য সব সাহসী শটে উইন্ডিজ বোলারদের চোখের জল নাকে এনে ফেলেন তিনি। তাতেই তো বোঝা যায়, একজন ব্যাটসম্যান কতটা আত্মবিশ্বাসী হলে এত অবলীলায় চালাতে পারেন ব্যাট! তারপরও নাকি মাঠে নামার আগে লিটন ভুগছিলেন স্নায়ুচাপে। ম্যাচ শেষে ব্যাপারটি স্বীকারও করেন তিনি, ‘ব্যাটিংয়ে যাওয়ার সময় নার্ভাস ছিলাম। এ ধরনের ম্যাচ খেলে অভ্যস্ত নই। যেহেতু টিম ম্যানেজমেন্ট খেলিয়েছে, এটা আমার জন্য বড় সুযোগ। একটু নার্ভাস ছিলাম। সাকিব ভাই অনেক সহায়তা করেছেন। অনেক কথা বলেছেন, যাতে আমার স্নায়ুচাপ সরে গেছে।’
গত পরশু লিটন যখন ব্যক্তিগত ৩০ রান করেন, ঠিক তখনই আত্মবিশ্বাস ফিরে পান তিনি। বের হয়ে আসেন খোলস ছেড়ে। অন্যদিকে সাকিবের কিছু পরামর্শে জ্বলে ওঠেন এ ডানহাতি, ‘তিনি (সাকিব) বলছিলেন উইকেট অনেক সহজ, কিছুক্ষণ খেললে খেলাটি সহজ হয়ে যাবে। জোর করে কোনো শট খেলার দরকার নেই। স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং করতে বলেছিলেন। তিনি যখন বাউন্ডারি মারছিলেন, সহজ হতে সেটি আমাকে সহায়তা করেছে। যা দেখে চাপমুক্ত হয়ে গেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক রান করেছি। তবে এমন ফিনিশিং কখনও করতে পারিনি। এত বড় মঞ্চে যে ফিনিশ করতে পেরেছি, এটি আমার অনেক বড় পাওয়া।’

 

সর্বশেষ..