স্মরণ: আজম খান

(২৮ ফেব্রয়ারি ১৯৫০- ৫ জুন ২০১১)
‘হারিয়ে গেছে খুঁজে পাব না’, ‘জীবনে মরণ কেন আসে’, ‘একদিন তো চলে যাব’Ñ এসব গান গেয়েছিলেন আজম খান। শুধু মৃত্যুই নয়, সমাজের নানা দিক উঠে এসেছে তার গানে। দেশি লোকসংগীত, পল্লিগীতি এবং আধুনিক বা সমাজসচেতন গানের সঙ্গে পপশৈলীর মিশেল রয়েছে তার গানে। এসব গানে আজও বুঁদ হয়ে রয়েছে বহু তরুণ-যুবা। ভবিষ্যতেও থাকবে। বাংলাদেশের সংগীতজগতে তিনি পপগুরু নামে খ্যাত। দেশের পপসংগীতে অন্যতম পথপ্রদর্শক তিনি।
আজম খানের জš§ ঢাকায়, ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। বাবা মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান। মা জোবেদা খাতুন। ১৯৫৫ সালে ঢাকেশ্বরী স্কুলে পড়ালেখা শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭০ সালে ঢাকার টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে স্নাতক হন।
গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও খ্যাতি ছিল তার। অভিনয়ও করেছেন আজম খান। ১৯৮৬ সালে ‘কালা বাউল’ নাটকে একজন কালা বাউলের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ২০০৩ সালে ‘গডফাদার’ নামে একটি চলচ্চিত্রে নামভ‚মিকায় অভিনয় করেন। একই বছর ক্রাউন এনার্জি ড্রিংকসের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হন। ২০০৫, ২০০৮ ও ২০১০ সালেও বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েছেন। খেলাধুলার প্রতিও তার বেশ ঝোঁক ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাজধানীর গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগ
ক্রিকেট খেলেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। একাত্তরে যুদ্ধ শুরুর পর ঢাকা থেকে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আগরতলায় চলে যান। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের মেলাঘর শিবিরে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দেশে ফিরে কুমিল্লার সালদায় প্রথম সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। সেই সময়ে ঢাকার একাধিক গেরিলা অভিযানে অংশ নেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানেও যোগ দিয়েছিলেন আজম খান।
সত্তরের দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশন তার প্রথম কনসার্ট সম্প্রচার করে। দেশের বাইরেও জনপ্রিয় আজম খান। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে কনসার্ট পরিবেশন করেছেন। একাধিক হিট গানের অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের। তার অ্যালবামের কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে।
মুখগহŸরের ক্যানসারে ভুগছিলেন। ক্যানসারের কারণেই ২০১১ সালের ৫ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন তিনি।